মরক্কোকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ফ্রান্স


শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান রানার্সআপরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত শেষ আটের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। মরক্কোকে ঘিরে যতটা আলোচনা ছিল, মাঠের খেলায় তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বলের দখল ও আক্রমণে পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ধরে রাখে ফরাসিরা।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল মরক্কো। এবার শেষ আটে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও একই ব্যবধানে আবারও পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ শানায় ফ্রান্স। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও দুর্দান্ত দুটি সেভ করে মরক্কোকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
২৬তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। পাল্টা আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়া এমবাপ্পেকে ফাউল করলে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। তবে নিজের নেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি এমবাপ্পে। তার দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বুনু। এরপর ৩৬তম মিনিটেও দেজিরে দুয়েকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন মরক্কোর এই গোলরক্ষক। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষার অবসান হয়। ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে।
দ্বিতীয় গোলটির সূচনাও করেন এমবাপ্পে। তার বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে দুই ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ায় বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পান দেম্বেলে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচু করে নেওয়া বাঁকানো শট বুনুর হাত ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে পড়ে।
গোল হজমের পর মরক্কো পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণকে তেমন চাপে ফেলতে পারেনি। পুরো ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগও তৈরি করতে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় তাদের লড়াই।
এই জয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে এমবাপ্পেকে তুলে নেন কোচ। তবে মাঠ ছাড়ার আগেই চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২০-এ, যা মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল কম।

















