ডা. শফিকুর রহমান

‘যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, দেশ গড়ার হাতিয়ার তুলে দেব’  

fec-image

যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, দেশ গড়ার হাতিয়ার তুলে দেব উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, বরং উন্নত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক সম্প্রীতি ও নারী অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা এখানে জাত দেখবো না, ধর্ম দেখবো না। বাংলাদেশের এই পবিত্র জমিনে নারী জাতির প্রতিটি সদস্যকে সম্মান করা আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।

সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমার পিছনে কিছু দুষ্ট লোক লেগেছে। চারদিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে তারা আজেবাজে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছিল। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো তা নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল। কিন্তু সত্য কখনো মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। আমাদের সাইবার টিম মূল অপরাধীকে শনাক্ত করেছে এবং পুলিশ গতকাল তাকে গ্রেফতার করেছে। ‘আল হাক্কু ওয়া জাহাকাল বাতিল’—সত্য সমাগত, মিথ্যা বিলুপ্ত। সত্য এখন মানুষের দরজায় কড়া নাড়ছে, জেগে ওঠার সময় হয়েছে।

কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ নদী ভাঙন নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে নদী শাসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের তিন তিনটি নদী আজ কঙ্কালসার, মরুভূমি বানানো হয়েছে। চোরেরা জনগণের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আমি কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, তবে ওই চোরদের পেট থেকে জনগণের লুটে নেওয়া টাকা বের করে আনা হবে এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।

উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রামকে দেশের অগ্রযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনাবিন্দু। অবহেলিত এই জনপদ থেকেই আমরা কাজ শুরু করব। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না; রাষ্ট্র যারা চালাবে তারা মালিক নয়, বরং ‘চকিদার’ হিসেবে জনগণের সেবা করবে। উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এখানে কৃষি বিপ্লব ঘটানো হবে যাতে কোনো যুবক বা যুবতী বেকার না থাকে।

যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াতে আমীর বলেন, যুবকরা তৈরি হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। আমরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসবো, আর তোমরা উড়োজাহাজের ককপিটে বসে দেশ চালাবে। কুড়িগ্রামের এই মাটি থেকেই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পিছনে তাকানোর বা একে অপরকে কামড়াকামড়ি করার সময় আর নেই। জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি আমরা করি না। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে ম্যারাথন দৌড় শুরু হয়েছে, আপনারা কি তাতে শামিল হবেন” উপস্থিত হাজার হাজার জনতা হাত তুলে তাঁর এই আহ্বানে সমর্থন জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন