রাঙামাটির ১৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শূণ্য

Times-091

স্টাফ রিপোর্টার:

২৩ এপ্রিল আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপর রাঙামাটির ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাশাপাশি আলোচনায় মুখর এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। জাতীয় রাজনৈতিক ও স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। ইতিমধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্থানীয় আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউপিডিএফ দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করছে বলে সংগঠনগুলো সূত্রে জানা গেছে। তবে নির্বাচনের প্রার্থী বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে ক্ষমতাশীল দল জেলা আওয়ামী লীগ। রাঙামাটি জেলার প্রায় ১৯টি ইউনিয়নে কোন প্রার্থী দিতে পারছেনা আওয়ামী লীগ

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর জানান, রাঙামাটি জেলার ৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৯টি পরিষদে তাদের দলীয় কোন প্রার্থী নেই। যে সব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এখনো দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা সেগুলো হল, রাঙামাটি সদর উপজেলা ইউনিয়নের- মগবান, বালুখালী বন্দুকভাঙ্গা, জীবতলী, সাপছড়ি, কুতুকছড়ি।

জুরাছড়ি উপজেলার জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং, দুমদুম্যা।

নানিয়ারচর উপজেলার ৪নং ঘিলাইছড়ি, ১নং সাবেক্ষ্যং, নানিয়ারচর।

বাঘাইছড়ি উপজেলার সারবাতলী, বাঘাইছড়ি, মারিশ্যা, বংগলতলী।

সাজেক ও বরকল উপজেলার বড়হরিণা ইউনয়নে এখনো কোন দলীয় প্রার্থী দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এসব ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী দেওয়া একটু কঠিন হতে পারে। কারণ স্থানীয় নামধারী অঞ্চলিক দলগুলোর অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে কোন নেতা কর্মী প্রার্থী হতে চাচ্ছেন না। যারা নির্বাচনে অংশ নিবে তাদের প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ উঠেছে, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায়র পার্বত্য জেলা রাঙামাটির রাজনৈতিক চিত্র ভিন্ন। এ জেলায় জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে স্থানীয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা অনেক বেশি। যার প্রমাণ বিগত সময়ের জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচন। প্রতিটি আসন স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলোর দখলে। তাই ক্ষমতাশীল দল হলেও নিজেদের অস্থিত সংকটে পরেছে জেলা আওয়ামী লীগ

তবুও আওয়ামী লীগ মরিয়া আসনটি ধরে রাখতে এবং বিএনপিও চায় পুনরুদ্ধার করতে। পিছিয়ে নেই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিইউপিডিএফ। কিছুটা তৎপরতা জাতীয় পার্টিরও লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। রয়েছে চাপা আতঙ্কও।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার জানান, স্থানীয় সশস্ত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে পাহাড়ে মানুষ জিম্মি। তাদের হুমকির কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের দলের অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করছে। এমনকি দলীয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানরা পর্যন্ত ভয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ নির্বাচন আসলে স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলো অপতৎপরতা বৃদ্ধিপায়। বিশেষ করে পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের জোর বেশি থাকে। তাই নির্বাচনের আগে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে কোনো রাজনৈতিকদল নির্বাচনে সুষ্টুভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + two =

আরও পড়ুন