রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী

এক সময় যেখানে শিক্ষার স্বপ্ন ছিল দূরের বিষয়, সেই রাঙ্গামাটিয়াতেই আজ উদযাপিত হচ্ছে একটি বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৫০ বছরের পথচলা পূর্ণ করে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) শুরু করেছে দুই দিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব।
রবিবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পড়ে উৎসবের ব্যস্ততা। ফটকে সাবেক শিক্ষার্থীদের ভিড়, মাঠজুড়ে সাজসজ্জা, আর স্কাউট দলের ব্যান্ডের তালে অতিথিদের আগমন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশ নেন প্রায় এক হাজার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আর্চডায়োসিসের সহকারী বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পবিত্র বাইবেল, কোরআন ও গীতা থেকে পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার মেরী স্কলাস্টিকা পালমা বলেন, “এই বিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক অর্জন নয়। এলাকার মানুষই এটিকে গড়ে তুলেছে, টিকিয়ে রেখেছে। পঞ্চাশ বছর পূর্তি সেই সম্মিলিত চেষ্টার স্বীকৃতি।”
স্মৃতিচারণে বিদ্যালয়ের শুরুর সময়কার বাস্তবতা উঠে আসে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লুইস অনিল কস্তার বক্তব্যে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই শিক্ষানুরাগী বলেন, “আজকের রাঙ্গামাটিয়াকে দেখে অনেকেই বিশ্বাস করবে না, এক সময় এই এলাকায় একটি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার সুযোগ ছিল না, উদ্যোগ নেয়ার মতো মানুষও খুব কম ছিল। প্রয়োজন থেকেই আমরা সাহস করে শুরু করেছিলাম।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী মানে শুধু সময় পার হওয়া নয়; এটি প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি সমাজে একটি টেকসই ভূমিকা রাখতে পেরেছে। তিনি বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণে বারবার উঠে আসে কিভাবে এই বিদ্যালয় আশপাশের গ্রামীণ জনপদের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে।
দিনের শেষভাগে শিক্ষার্থী ও অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজকরা জানান, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সারাদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় উপাসনা, বর্ণাঢ্য জুবিলী র্যালি, কেক কাটা, বিদ্যালয়ের ইতিহাসভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, সুবর্ণ জয়ন্তী স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লটারি ড্র।
১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৮৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ১৯৯৪ সালে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো নিজ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

















