কথপোকথনের অডিও রেকর্ড ফাঁস

রাজস্থলীতে ঠিকাদারের কাছে প্রধান শিক্ষকের চাঁদা দাবি

fec-image

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ২নং গাইন্দ্যা ইউনিয়নের ছাইংখ্যং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ চাঁদা দাবির কারণে বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ঠিকাদারের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফোন করে তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। না হয় স্কুলের উন্নয়ন কাজ করতে দেয়া হবে না। তবে ঠিকাদার এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ না করাতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না উপজেলা প্রশাসন।

ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, উল্লেখিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদার ও প্রধান শিক্ষকের কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অডিওতে প্রধান শিক্ষক টাকা চাওয়ার পর ঠিকাদার ৫ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রধান শিক্ষক পুরো ২০ হাজার টাকাই দিতে হবে এবং এক পয়সাও কম দিলে হবে না বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজ করতে গেলেই চাঁদা দাবি করে কিছু সশস্ত্র সংগঠন এবং তাদেরকে চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির এবারের অভিযোগ এই প্রথম এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায় এলাকাবাসী। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

ঠিকাদার কামাল হোসেন জানান, ছাইংখ্যং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যা তার ব্যবহ্নত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার নিকট হতে ২০ বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে প্রধান শিক্ষক কাজ বন্ধ করে আমার লোকজনকে বিদ্যালয় ছাড়তে বলেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাজুরুল ইসলাম বলেন, ছাইংখ্যং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তিনি চাঁদা দাবি করছেন বলে শুনেছি। কিন্তু ঠিকাদারের পক্ষ হতে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের ফোনে কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সজীব কান্তি রুদ্র জানান, প্রধান শিক্ষক সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যা ঠিকাদারের নিকট মোবাইলে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে শুনেছি এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিষয়টি অবগত করেছেন। অভিযোগ পেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রাজস্থলী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন