রাতে যাত্রীবাহী ট্রেনের সামনে হাতির পাল : অল্পের জন্য রক্ষা

fec-image

২২ জুলাই মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাত্রীবাহী সৈকত এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় হাতির কবলে পড়লে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পায়। লোকোমাস্টার ও গার্ডের ধারণা, হাতির পালটিতে ৪ থেকে ৫টি হাতি ছিল। একটি হাতি ট্রেনের শেষ বগিতে ধাক্কা দিলেও গার্ডের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে বগিটি ছিটকে পড়েনি।

ট্রেনচালক আবদুল আউয়াল জানান, অভয়ারণ্য এলাকায় চার কিলোমিটার পথে ট্রেনের গতি থাকে ২০ কিলোমিটার। এই ধীরগতিতে চলাকালীন হারবাং-লোহাগাড়া সেকশনের চুনতি অভয়ারণ্যে রেললাইনের ওপর একটি হাতি ট্রেনের হেডলাইটের আলোতে রেলপথের ওপর দেখতে পান। দেখার সঙ্গে সঙ্গে ‘ব্রেক’ চাপতে থাকেন। একপর্যায়ে জরুরি ব্রেকে চাপ দেন। এতে কাজ হয়। হাতি যেখানে অবস্থান করছিল, তার ঠিক আগে গিয়ে ট্রেন থামে। হাতির কোনো বিপদ না হওয়ায় স্বস্তি পান। এরপর হাতি যাতে সরে যায় এ জন্য ঘনঘন হুইসেল দিতে থাকেন। এতে হাতি নিচে নেমে যায়।

তবে স্বস্তির মুহূর্ত হঠাৎ উবে যায় বলে জানান ট্রেনচালক আবদুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘হাতি নেমে যাওয়ার পর ১-২ মিনিট পর ট্রেনের গার্ড সাখাওয়াত হোসেন ফোনে করে জানান, হাতির পাল ট্রেনের বগিতে ধাক্কা দিচ্ছে। এতে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। দ্রুত ট্রেন চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করি।’

কক্সবাজার থেকে আসা সৈকত এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম স্টেশনে এসে পৌঁছায় রাত একটায়। ট্রেনচালক আবদুল আউয়াল বলেন, এই রেলপথে কিন্তু আগেও ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মারা গিয়েছিল। আবার একই ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কিছু হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবার ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, হাতির ক্ষতি না হয়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটিতে প্রায় ৫০০ যাত্রী ছিল। এই আন্তনগর ট্রেনে বগি ছিল ১৭টি। শেষ বগিটি ছিল গার্ডের। ট্রেনের গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হঠাৎ ট্রেন থেমে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনচালক ফোন করে জানান, রেললাইনের ওপর হাতি আছে। তাই সতর্কতা হিসেবে তাঁর (গার্ডের) বগির ডান পাশের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর বাঁ পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন।

হুট করে একটি হাতি ছুটে এসে বগিতে ধাক্কা দেয় জানিয়ে ট্রেনের গার্ড সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দ্রুত বাঁ পাশের দরজা বন্ধ করে দিই। কিন্তু হাতি ক্রমাগত দরজা ও বগিতে আঘাত করতে থাকে। এ সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। ট্রেনচালককে ফোন দিয়ে দ্রুত ট্রেন ছাড়তে বলি। এরপর কোনো রকম পার হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। হাতিও রক্ষা পেয়েছে। মানুষেরও কিছু হয়নি।’

বিচক্ষণতার সঙ্গে ট্রেন থামানো এবং এতে হাতি রক্ষা পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান ট্রেনচালক আবদুল আউয়াল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন