রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের দায়ে সু চির বিচার শুরু

fec-image

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের দায়ে আং সান সু চির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ আর্জেন্টিনার ‘সর্বজনীন এক্তিয়ার’-এর আওতায় একাধিক রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন মামলা দায়ের করলে বুধবার এই বিচার কাজ শুরু হয়৷ সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার ও অন্যায়৷

সু চির সাথে সাথে এই মামলায় অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছেন মিয়ানমারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারাও৷ আর্জেন্টিনা ছাড়াও এমন বিশেষ এক্তিয়ারের উল্লেখ রয়েছে আরো কয়েকটি দেশেও৷

বাদি পক্ষের আইনজীবী টোমাস ওজেয়া সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানান, ‘‘অভিযোগে রয়েছে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত নানা অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উল্লেখ৷ সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছাড়াও সেখানে রয়েছে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ায় সহায়কদের কথা৷ আমরা এই প্রক্রিয়া আর্জেন্টিনায় করছি কারণ অন্য কোথাও এই মুহূর্তে এমন অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব নয়৷’’

ওজেয়া আশাবাদী, এই মামলার ফলে শিগগিরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করবে আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ৷

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন রোহিঙ্গারা; এই সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে পৌঁছে যায় সাত লাখে৷ আর আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা৷

বারমিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট টুন খিন বলেন, ‘‘দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে৷ বিভিন্ন ঘেটোতে একঘরে করে রাখা ছাড়াও তারা আমাদের বাধ্য করেছে দেশ ছাড়তে৷ আমাদের মেরে ফেলতে চেয়েছে৷’’ এছাড়াও, সোমবার হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে গাম্বিয়া৷

‘‘সময় এখন বিচার চাওয়ার’’

২০১৭ সালের সর্বশেষ সামরিক অভিযানের কারণে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন ৭ লাখ চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা, জানাচ্ছে জাতিসংঘ৷ এই পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে চিহ্নিত করা হয় গণহত্যা হিসাবে৷

আর্জেন্টিনার এই মামলায় সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকার পাশাপাশি আলোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও৷ ওজেয়া, যার নেতৃত্বে সংগঠিত হচ্ছে এই আইনী প্রক্রিয়া, ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছেন৷ তাঁর সহায়তাই আর্জেন্টিনায় এই মামলার মূল শক্তি৷

তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজের চোখে দেখেছি কীভাবে রোহিঙ্গারা রয়েছেন৷ এখন সময় এসেছে বিচার চাওয়ার৷’’

এই মামলার সাথে জড়িত দু’টি মানবাধিকার সংস্থা, আবুয়েলাস দে প্লাজা দে মায়ো এবং ফুন্দাসিওন সের্ভিসিও পাজ ই জুস্টিসিয়া, এর আগেও লাতিন আ্যামেরিকায় একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় নেতৃত্বদান করেছে৷ তাদের সাহায্যেই হাজার হাজার মানুষের গুম হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার কাজ শুরু হয়ও বিচার প্রক্রিয়া সম্ভব হয়৷

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গাদের, সু চির
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − 4 =

আরও পড়ুন