রোহিঙ্গা সঙ্কট ও অর্থায়ন কমে যাওয়ার দিকগুলো জেনেভায় তুলে ধরবে বাংলাদেশ


সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুরে রোহিঙ্গা বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে বহু অংশজনের একটি সাইড ইভেন্ট। এজন্য বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম। তিনি সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। তার বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকট, অর্থায়ন কমে যাওয়ার ফলে আশঙ্কার দিকগুলো তুলে ধরবেন। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি বৈশ্বিক সহযোগিতা কামনা করবেন।
জেনেভায় এবার সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা বাড়াতে একটা কার্যকর আহ্বান আসবে বলে আশা করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা বিষয়ক এই বৈঠকে আরও অংশ নেবে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের প্রতিনিধি পাওলিটো সি ডি জেসাস, বিশ্বব্যাংকের ভঙ্গুরতা, সংঘর্ষ ও সহিংসতা বিষয়ক উপদেষ্টা জেভিয়ার ডিভিক্টর, অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিদেশ ও বাণিজ্য দফতরের পিটার এল্ডার এবং এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস নেটওয়ার্কের (এপিআরআরএন) সহ-মহাসচিব হাফসার তামিসুদ্দিন।
ইউএনএইচসিআর আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের মিটিংয়ের সাইড ইভেন্টটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং জোরদার করার জন্য মূল আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত করবে। মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা ৮ বছর ধরে ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছে।
২০২৩ সালে গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামে চালু হওয়া মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্রতিশ্রুতির গতির ওপর ভিত্তি করে অধিবেশনটি ৪৫টি প্রতিশ্রুতির অগ্রগতির দিকে নজর দেবে। এই অঞ্চলে স্থিতিস্থাপকতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতির প্রদর্শন করবে এবং নতুন প্রতিশ্রুতিগুলো একত্রিত করবে। যেহেতু দাতাদের ক্লান্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক সংকট টেকসই সম্পৃক্ততাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, তাই এই বৈঠকে সংহতি প্রকাশকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে রূপান্তরিত করতে, আয়োজক দেশগুলোর সঙ্গে বোঝা ভাগাভাগি জোরদার করতে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা প্রেরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে। যাতে তারা জানতে পারে তাদের সুরক্ষা, অধিকার এবং ভবিষ্যৎ একটি বৈশ্বিক অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে।
গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামে (জিআরএফ) প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে এবং ২০২৭ সালে জিআরএফের পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখাও তৈরি করবে। এই বছর জিআরএফ অগ্রগতি পর্যালোচনার অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে আছে—শরণার্থী এবং তাদের গ্রহণ করা দেশগুলোর জন্য সহায়তা সম্প্রসারণ করা, গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামের অংশ হিসেবে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বহু-স্টেকহোল্ডার প্রতিশ্রুতি কাঠামোর মাধ্যমে যেসব এলাকায় আরও সহায়তার প্রয়োজন, সেখানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

















