UNDP বান্দরবানের জেলা সমন্বয় কারীর নেতৃত্বে

 লামায় জাতিগত বিদ্বেষপূর্ণ উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নের অভিযোগ

fec-image

জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো ও জনক্ষোভের আশঙ্কায় লামা উপজেলায়  UNDP (SID-CHT) Project: এর আওতায় কোভিড ১৯ এর ক্ষতিগ্রস্ত জন সাধারণের মাঝে বিরতণের জন্য খাদ্য কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত ও জাতিগত বিদ্বেষ পূর্ণ উপকার ভোগির তালিকা বাদ দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্ভুল উপকারভোগির তালিকা প্রণয়ন করে খাদ্য সহায়তা বিতরণে UNDP-র স্থানীয় কর্মকর্তাগণ সম্মত না হওয়ায় এই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় লামা উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা পর্যালোচনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজা রশীদ এর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় UNDP বান্দরবান জেলার সমন্বয়ক খুশি রায় ত্রিপুরা জানান, লামা উপজেলায় দশ হাজার ছয়শত জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণীত তালিকা সংশোধন করা সম্ভব নয় বলে তিনি সভায় জানান।

ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াই চিং মার্মা জানিয়েছে, UNDP বান্দরবান জেলার সমন্বয়ক তার নিকট থেকে চারশত পঞ্চাশ জনের একটি তালিকা নিয়েছে। চুড়ান্ত তালিকায় দেখা গেছে তার ইউনিয়নে ১৪ শত ২৬ জনের নাম। তার মতামত এবং অংশ গ্রহণ ছাড়া এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি সভায় জানান। একইভাবে ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, আজিজনগর ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ, রূপসী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান চাছিংপ্রু মার্মা জানান ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর সাথে সমন্নয় ছাড়া UNDP এই প্রকল্পের বান্দরবনের কর্মকর্তাগণ ১০ হাজার ছয়শ জনের তালিকা প্রণয়ন করেছেন। জেলা কর্মকর্তা নিজের সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা প্রণয়ন করায় অনান্য সম্পাদায়ের লোকজন সমভাবে তালিকায় আসেনি। এই তালিকা দিয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করলে জাতিগত বিদ্বেষ বাড়বে এবং এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে বলে তারা জানান।

লামা পৌরসভা মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম জানান জেলা সমন্বয়কারী খুশি রায় ত্রিপুরা নিজের সম্প্রাদয়ের লোকজনকে প্রাধান্য দিয়ে উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন করায় UNDP ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই তালিকা দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হলে এলাকায় জনরোষের সৃষ্টি হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজা রশীদ জানান সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রনীত তালিকাটি পর্যালোচনা করে সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে। বিতর্কিত উপকারভোগীর তালিকা দিয়ে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন লামা উপজেলার ১০ হাজার ছয়শত জন উপকারভোগীর মাঝে ৮ হাজার একশত জনের তালিকা জেলা সমন্বয়ক খুশি রায় ত্রিপুরা নিজের মত করে করেছে। তার নিজস্ব জাতির লোকজনকে অগ্রধিকার দিয়ে করা এই তালিকা লামা উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। জাতিগত বিভেদ হতে পারে এমন কোন কার্যক্রম এই উপজেলায় কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 14 =

আরও পড়ুন