সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেকে হারিয়ে কাঁদছেন মা


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগেের সামনে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন নেপু দাস। চোখে অঝোর ধারায় নামছে অশ্রু। তিনি বলছেন, ‘চাঁদের মতো পোয়া আছিল আর বইন পুত।’ বার বার বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সোমবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জুয়েল দাসের মাসি নেপু দাস। জুয়েল দাস সীতাকুণ্ড থানার বারআউলিয়া এলাকার গোপাল দাসের ছেলে।
নেপু দাস জানান, ছেলেরা যখন ছোট তখন তার বোন লিমা দাস মারা যান। এখন জুয়েল দাসও চলে গেল।
তিনি জানান, রোববার রাতে পূজা দেখতে ফৌজদারহাট এলাকায় যান জুয়েল। সেখান থেকে সকালে পিকআপ ভ্যানে যাচ্ছিলেন নগরের কাট্টলী মামার বাড়ি। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান। জুয়েল সাগরে মাছ ধরার কাজ করতেন।
সোমবার ভোরে নগরের সিটি গেইট এলাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পিকআপ ভ্যানের পাঁচজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- আকাশ দাস (২৬), অজিত দাস (২৪), রনি দাস (২৫), জুয়েল দাস (১৮) ও মো. সোহাগ (৩২)। তারা সবাই সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা। তাদের অধিকাংশ পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। ভোরে মাছ আনার জন্য সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম নগরের ফিশারিঘাটে যাচ্ছিলেন তারা।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সামনের অংশ একেবারেই বিধ্বস্ত। এখানে বসে থাকা চালক, হেলপার ও এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। পিকআপ ভ্যানটির সামনে তিনজন ও পেছনে সাতজন যাত্রী ছিলেন। পুলিশের ধারণা, ভোর বেলা চালক ঘুমের ঘোরে থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নগরীর আকবর শাহ থানার এসআই মো. সাজ্জাদ বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

















