সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র স্থানীয় জোন অধিনায়ক সাংবাদিকদের বলেন, যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংগঠিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে। এ বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি সকালে বিজিবির দক্ষিণ-পূর্ব চট্টগ্রাম রিজিয়নের অধিনস্ত গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন খেদাছড়া ব্যাটলিয়ন (৪০ বিজিবি) হল রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম পিএসসি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণমাত্রায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন থাকবে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটি জেলার ৩৩টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও বিজিবির বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড এবং আরসিভি মোতায়েন করা হবে।
ব্রিফিংয়ে বিজিবি জানায়, গত ৩ মাসে তারা চট্টগ্রাম রিজিয়নের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নসমূহ আভিযান পরিচালনা করে ২ জন আসামীসহ ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫০ টাকার মাদক, ৫ কোটি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৫৬১ টাকার অন্যান্য মালামালসহ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার ৪১১ টাকার অধিক মূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে। যার মধ্যে ১৯৭ বোতল মদ, ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০৮কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজা, ১৯ বোতল বিয়ার ৬৯ লিটার বাংলা মদ এবং ২ হাজার ২১০ প্যাকেট বিদেশী সিগারেট রয়েছে। এছাড়াও গত মাসে চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিজিবি সদস্যগণ সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন উপায়ে ৪৩২টি গরু এবং ১৮টি ছাগল আটক করে স্থানীয় শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর গুইমারা সেক্টরের অধীনস্থ খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) ১টি ১২ বোর পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা এ্যামোনিশন ও ৩টি হাসুয়া (দ্যা) আটক করেছে।
সিমান্ত রক্ষার পাশাপাশি গত আড়াই মাসে চট্টগ্রাম রিজিয়নের আওতাধীন ব্যাটালিয়নসমূহের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় দরিদ্র পাহাড়ী ও বাঙ্গালি জনগণকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ৭১ জনকে আর্থিক অনুদান, ৪২ জনকে গৃহনির্মাণের জন্য ঢেউটিন, ১২০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান, ২৫ জনকে সেলাই মেশিন প্রদান, ৪ হাজার ২৭৮ জনের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫৪৬ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ, ২৬৬ জনকে কৃষি উপকরণ এবং ২ হাজার ৫৫০ জন গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে কলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয় হয়।

















