সেন্টমার্টিন পৌঁছেছে পণ্যবাহী জাহাজ


কক্সবাজার নুনিয়াছড়ার ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এম ভি বারআউলিয়া জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা পর শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নিরাপদে দ্বীপের জেটিতে পৌঁছেছে।
জাহাজে থাকা চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র দ্বীপের বাসিন্দা এম সাইফুর রহমান জানান, সাগরে হালকা-পাতলা বাতাস, ঢেউ এবং স্রোতের বিপরীত থাকাই একটু সময় বেশী লাগলেও অবশেষে জন্মভূমিতে আমরা নিরাপদে পৌঁছতে পেরেছি।
জাহাজে বিভিন্ন সময়ে টেকনাফে আটকে পড়া প্রায় তিনশো জন স্থানীয় যাত্রী ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘গত ৫, ৮ ও ১১ জুন মিয়ানমার-বাংলাদেশ নাফনদীর অংশের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনগামী ট্রলার ও স্পিডবোট লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয়।
এ কারণে সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দ্বীপটিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অবশেষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কক্সবাজার থেকে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নানা ধরণের ভোজ্য ও খাদ্যপণ্য নিয়ে জাহাজটি দ্বীপে এসছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আটকাপড়া বাসিন্দারাও ফিরছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ জাহাজটিতে খাদ্যপণ্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে আটকাপড়া সেন্টমার্টিনের ৩ শতাধিক বাসিন্দাও এই জাহাজে করে দ্বীপে ফিরছেন।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কুরবানি উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য পাঁচটি গরুসহ ভিজিডি, ভিজিএফ, জেলে পরিবারের জন্য ৭৬ টন চাল পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌরুটটি গত দুইশ বছর ধরে নিরাপদ যাতায়াত থাকলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ছোড়া গুলির অজুহাতে সমুদ্র ও নাফনদীর চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া কোন ভাবে কাম্য নই।

















