উখিয়ার পালংখালীতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

fec-image

উখিয়া উপজেলার ০৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের থাইংখালী হাকিমপাড়া গ্রামের একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

জানা যায়, এলাকাবাসীর কাছ থেকে লুকিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক দু’জন নাবালক ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের গোপনে আয়োজিত বিয়েতে বাঁধা প্রদান করা হয়।

সূত্র জানায়, তারা উভয় পক্ষই পালংখালী ইউনিয়নের ০৫নং ওয়ার্ডের হাকিমপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। ছেলের নাম: আব্দুল করিম, পিতা: আব্দু রহিম ও মাতা: ছেনুয়ারা বেগম। মেয়ের নাম: ছমিরা আক্তার মুন্নি, পিত : মৃত আশরাফ আলী ও মাতা : ধইয়া বিবি।

জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ছেলের বয়স ১৮ বছর ৩ মাস ১৫ দিন ও পরিবারের সূত্র মতে মেয়ের বয়স আনুমানিক ১৭ বছর ৩ মাস। ছেলের পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী ছেলে রাজমিস্ত্রী কাজ করে এবং মেয়ের পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী মেয়ে থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

জানাগেছে, ছেলে-মেয়ে দুজনই দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিনের প্রেমের অবসান ঘটিয়ে তাদের বিয়ে করার ইচ্ছে জাগলে তারা তাদের বাবা-মাকে জানায়। পরে তাদের ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে দুুই পরিবার ঐক্যমত পোষণ করার মাধ্যমে বিয়ের আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়। এমন সময়ে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিয়ের যাবতীয় আয়োজন বানচাল করে দেন।

এব্যাপারে ০৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান,”এই করোনা পরিস্থিতিতে সকলের নীরবতার সুযোগ নিয়ে তারা উভয় পরিবারের ভিত্তিতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করে। এমতবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁধা প্রদান করা হয়। পরে তাদের বিয়ে বন্ধে তিনশো টাকার স্টাম্পে একটি লিখিত অঙ্গিকার নামায় ছেলে ও ছেলের বাবার স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং মেয়ে ও মেয়ের ভাই সিরাজ মিয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।”

তিনি বলেন,”ওই অঙ্গিকার নামায় সরকারি বিধান অনুযায়ী যতদিন ছেলে ও মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়নি ততদিন পর্যন্ত তাদের বিয়ে স্থগিত করা হলো। অর্থাৎ ছেলের বয়স যতদিন পর্যন্ত ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ বছর হয়নি ততদিন পর্যন্ত বিয়ে ও তাদের মধ্যে অবাধ মেলামেশা বন্ধ রাখতে হবে।”

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন