করোনার প্রভাবে রাঙ্গামাটিতে ব্যবসায় নেমেছে ধস


করোনাভাইরাসের কারণে রাঙ্গামাটিতে ধস নেমেছে পর্যটন শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যে। প্রশাসনের পূর্বে ঘোষিত অনুযায়ী ওষুধের দোকান, মুদির দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে শপিং কমপ্লেক্স, আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি লোকসান গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে সরকার হারাচ্ছেন বিশাল অংকের রাজস্ব ।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে রাঙ্গামাটিতে সকল ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে গেছে। যার ফলে এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে থাকলে আর্থিক সংকটে পড়বেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তারা আরও বলেন, সারা বছর পাহাড়ে মোটামুটি ব্যবসা-বাণিজ্য চলমান থাকলেও উপজাতিদের সামাজিক উৎসব বিজু ও মুসলিমদের মাহে রমজানকে টার্গেট করেন ব্যবসারীরা।
কারণ দুই উৎসবের বেচা-কেনায় নির্ভর করে তাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এই সব উৎসবগুলোকে ঘিরে যা বেচা-কেনার কথা ছিল তাও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে ভেস্তে গেছে। যার কারণে ক্ষতি হতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকা।
রাঙ্গামাটি রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম.নেকবর আলী জানান, করোনা ভাইরাসেরে কারণে তাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ চলে গেলেও অনেক কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। হোটেল বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। তেমনি অন্যদিকে দোকানের বাকি, দোকান ভাড়া ও ব্যাংক লোনের টাকা নিয়ে প্রতিনিয়ত চাপে মধ্যে রয়েছেন।
এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে যদি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে তিনি জানান।
ট্যুরিস্ট বোট-মালিক কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী জানান, করোনাভাইরাসের কারণে রাঙ্গামাটিতে পর্যটন শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। যার কারণে সকল ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রাঙ্গামাটিতে পর্যটক না আসায় এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ টাকা মত আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বোট-মালিক সমিতি । এতে প্রায় ১০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য শিল্পের মত পর্যটন শিল্পের শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করার জোর দাবি জানান তিনি।
রাঙ্গামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মইন উদ্দিন সেলিম জানান, করোনাভাইরাসের কারণে যেখানে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে হোটেল তো বন্ধ থাকবেই। মার্চ মাস থেকে হোটেল বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। ফলে এই পরিস্থিতিতে হোটেল ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় কর ও ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সব ব্যবসাযী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেও এর প্রভাব পড়েছে। প্রতি মাসে তাদের আয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই আয় থেকে বিরত পর্যটন শিল্প।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট কেটে উঠতে সময় লাগবে। তবুও সবাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ ঘরে থাকুন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

















