কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক দেবে না- এটা হতে পারে না : দিলরুবা দোয়েল

fec-image

‘কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট হয়। মানুষ সিনেমা হলে বসে স্টার সুপারস্টারদের দেখেন। হাততালি দেন, বাহবা দেন। কিন্তু এর পেছনে পুরো সিনেমাটা তৈরি করতে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের কথা আমরা ভুলে যাই।

অনেকেই আবার পারিশ্রমিকও পান না। কোটি কোটি টাকার প্রোজেক্ট অথচ এই অল্প পারিশ্রমিকও দিতে ভুলে যায় তারা। আমি শুধু আমার কথাই বলছি না, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতের এমন অহরহ ঘটনা ঘটছে।’
বলছিলেন অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল।

শাকিব খানকে নিয়ে ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান হৃদয়, তেমনি তাঁর প্রতি অভিযোগেরও যেন কমতি নেই। এর আগে ছবির ভারতীয় চিত্রগ্রাহক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের ডালি তুলে ধরেন। পরে অবশ্য সমঝোতার মাধ্যমে সেটি নিরসন হয়।

এবার জানা গেল হৃদয় অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েলকে পারিশ্রমিক দেননি। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘হৃদয়ের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। সে আমার ভালো বন্ধু। আমি হয়তো এর প্রসঙ্গে কথাই বলতাম না। কিন্তু আমি একজন সিঙ্গেল মাদার।

আমার পেশাই এটা। আমাকে কাজ করিয়ে কেউ পারিশ্রমিক দেবে না এটা হতে পারে না। আমাকে কেউ অসম্মানিত করতে পারবে না।’
দোয়েল বলেন, ‘মেহেদি হাসান হৃদয়ের সঙ্গে আমার কিছু হয়নি। তাঁর সহকারী পরিচালক আমাকে অনেক রাতে ফোন দিয়ে ডাবিং করতে তখনই চলে যেতে বলে। কিন্তু আমি তখন যেতে পারিনি। পরের দিন সকালে আমি যাই। আমি ডাবিং শেষ করে পারিশ্রমিকের কথা উল্লেখ করেছিলাম। তখন সহকারী পরিচালক বলেছিল বিকেলে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু বিকেল কেন একদিন দুইদিন তিন দিন করে কাটিয়ে দেয়। এরমধ্যে আমি শ্রীমঙ্গল চলে যাই। যেদিন শ্রীমঙ্গলে আমি নামি তখন আমাকে সে সহকারী পরিচালক আমাকে ডাবইং কারেকশন করে দিয়ে যেতে বলে। তখন আমি আরেকটি শুটিংয়ে। চার দিন শ্রীমঙ্গলে লাগবে।’

সেই সহকারী পরিচালক দিলরুবা দোয়েলকে অসম্মানিত করেছিল। দোয়েল বলেন, ‘আমি যখন আসতে পারবো না বলে দিলাম, তখন সহকারী পরিচালক আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলো। সে আমাকে বললো দায়িত্ব যখন নিতে পারবেন না তখন এতো বড় প্রোজেক্টে কাজ করতে এসেছেন কেন? সে আমার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটা নিয়ে আমি ভীষণ অসম্মানিত হয়েছিলাম। পরে তারা আমাকে পারিশ্রমিক দেয়নি।’

এমন ঘটনা চলচ্চিত্র ও নাট্য ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত ঘটে জানিয়ে দিলরুবা দোয়েল বলেন, ‘ঈদের আগের দিন এক মেক আপ আর্টিস্ট আমাকে ফোন দিয়ে কাঁদতেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে, সে জানালো তাঁর কাছে খাওয়ার মতো কোনো পয়সা নেই। বাসায় কিচ্ছু নেই। ঈদের আগে বেশ কয়েকটা কাজ করেছে কোনোটার পারিশ্রমিক সে পায়নি। আমার বিকাশে তখন কিছু টাকা ছিল, আমি সেটা পাঠিয়ে দেই।’

প্রায়ই এমন অভিযোগ ওঠে, এমন অভিযোগ উঠবে কেন? প্রশ্ন রেখে দিলরুবা দোয়েল বলেন, ‘আমাদের দেশে এনওসি দেওয়ার পদ্ধতি চালু নেই। যে কাউকে দুই টাকার আর্টিস্ট বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু সেই দুই টাকা পারিশ্রমিকের রশিদ দেওয়া হয় না। কেন রশিদ দেন না, কারণ তারা এভাবেই কাজ করবেন। তবে আমার মনে হয় এটা নিয়ে বসা দরকার। দুই টাকা পারিশ্রমিক হলেও তার রশিদ দরকার। তাহলে স্বচ্ছতা থাকবে। এই স্বচ্ছতা থাকলে নেপথ্যের শিল্পীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে না।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন