ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ইংল্যান্ডের

fec-image

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, পেনাল্টি নাটক সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে দুই পরাশক্তির লড়াই, টানটান উত্তেজনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধ ইংল্যান্ডের একপেশে আধিপত্য। ডালাসে ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুরন্ত যাত্রা শুরু ইংল্যান্ড দলের।

ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবলের দেখা মেলে। ৯ মিনিটে ননি মাদুয়েকেকে বক্সে ফাউল করে বসেন ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। হ্যারি কেইনের প্রথম পেনাল্টি শট ডমিনিক লিভাকোভিচ ঠেকিয়ে দিলেও ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ইয়োসকো ভার্দিওল শটের আগেই বক্সে ঢুকে পড়লে শাপে বর হয় ইংল্যান্ডের জন্য। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি কেইন।

এবার জবাব দেওয়ার পালা। ৩৬ মিনিটে সুচিচের কাটব্যাক থেকে মার্টিন বাতুরিনার ১২০ কিমি গতির বুলেট শটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া।

৪২ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে জোরালো হেডে কেইন নিজের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান। তাতে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইভান পেরিসিচের অ্যাসিস্ট থেকে পেতার মুসার গোল আবারও ২-২ সমতায় ম্যাচ জমিয়ে তোলে।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই খোলস বদলে ফেলে টুখেলের দল। ৪৭ মিনিটে জুড বেলিংহাম মাঝমাঠ থেকে আসা লং বল দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত লো-শটে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ম্যাচ জুড়ে চলেছে লিভাকোভিচের একক প্রতিরোধ; ৫৫ মিনিটে ও’রেইলি ও অ্যান্থনি গর্ডনের ব্যাক-টু-ব্যাক নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচেই রেখেছিলেন এই ক্রোয়াট কিপার। ম্যাচের শেষ দিকে ক্রোয়াটরা দূরপাল্লার শটে পিকফোর্ডকে কিছুটা পরীক্ষা করলেও ম্যাচের ভাগ্য আদতে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ইংল্যান্ডের বেঞ্চের গভীরতায়। ৭২ মিনিটে রাইস, মাদুয়েকে ও গর্ডনকে তুলে কোচ টমাস টুখেল মাঠে নামান রজার্স, সাকা ও রাশফোর্ডকে।

টুখেলের সেই চালেরই চূড়ান্ত ফসল আসে ৮৫ মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ডিফেন্ডারকে বোকা বানান মার্কাস রাশফোর্ড। এরপর লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে তার নেওয়া নিখুঁত বাঁকানো শটটি যখন জাল ছুঁল, ক্রোয়েশিয়ার ফেরার সব পথও তখন বন্ধ হয়ে যায়। এই ৪-২ গোলের জয় প্রথম ম্যাচে টুখেলকে যেমন স্বস্তি দেবে, তেমনি বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড শুরুতেই বার্তাও দিয়ে রাখল বাকি ফেবারিটদের।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ফুটবল
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন