খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে প্রভাষকদের কর্মবিরতি

fec-image

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চনার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজেও তৃতীয় দিনের মতো “পদোন্নতি না হলে কর্মবিরতি” কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে সরকারি কলেজগুলোতে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ৫ বছর পর পদোন্নতি পাওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকেই ১০–১২ বছর অপেক্ষা করেও প্রথম পদোন্নতি পাননি।

বিশেষ করে, ৩২তম ও ৩৩তম বিসিএস ব্যাচ প্রায় ১২ বছরেও প্রথম পদোন্নতি হয়নি। যেমন ৩৪তম বিসিএসে ১০ বছর, ৩৫তম বিসিএসে ৯ বছর ৩৬তম বিসিএসে ৮ বছর ৩৭তম বিসিএসে ৭ বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশনভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩২তম ব্যাচে ৫৪ জন, ৩৩তম ব্যাচে ৩৬১ জন, ৩৪তম ব্যাচে ৬৩১ জন, ৩৫তম ব্যাচে ৭৪০ জন, ৩৬তম ব্যাচে ৪৬০ জন, ৩৭তম ব্যাচে ১৫৩ জন। সব মিলে প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হলেও কোন ব্যাচই পুরোপুরি পদোন্নতি পাননি।

ডিপিসি সভা হলেও কার্যকর হয়নি সিদ্ধান্ত
২০২৫ সালের ৪ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো পর্যন্ত পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয়নি। আত্মীকৃত শিক্ষকদের একটি মামলার অজুহাতে পদোন্নতি আটকে দেওয়া হলেও আদালতের কোনো পর্যবেক্ষণেই পদোন্নতি স্থগিত রাখার নির্দেশ নেই বলে প্রভাষক পরিষদের দাবি। সম্প্রতি হাইকোর্ট নিয়মবহির্ভূত ও বিকল্প আদেশগুলোর ওপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, ফলে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

অন্যান্য ক্যাডার এগিয়ে, শিক্ষা ক্যাডার পিছিয়ে
অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই দুই দফা পদোন্নতি পেয়েছেন। ৩৬তম ব্যাচ ২০২৩ সালে,৩৭তম ব্যাচ ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হয়েছেন, ব্যাংকাররা চলে গেছেন ৬ষ্ঠ/৫ম গ্রেডে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকও পৌঁছে গেছেন ৬ষ্ঠ গ্রেডে। সাম্প্রতিক সপ্তাহেই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারি পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে ১৭ মাস ধরে পদোন্নতি সম্পূর্ণ বন্ধ। নিয়মিত পদোন্নতি এখন “সোনার হরিণে” পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকার চাইলে এখনই পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব;
আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারের বাড়তি কোনো অর্থব্যয় নেই।
বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় ইচ্ছা থাকলেই অবিলম্বে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব।

তাদের দাবি—“শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০০ সালের বিধি বহির্ভূত ৫৭টি আদেশ বাতিল করে দ্রুত পদোন্নতির আদেশ জারি করতে হবে।”

সারাদেশে আন্দোলন অব্যাহত
পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকদের আন্দোলনে বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে “পদোন্নতি না হলে কর্মবিরতি” কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন