টেকনাফে জলাতংকের প্রাদুর্ভাব
উপজেলা প্রতিনিধি, টেকনাফ :
গত কয়েক বছর ধরে টেকনাফ উপজেলায় বে-ওয়ারিশ কুকুর নিধন না হওয়ায় বংশ বৃদ্ধি হয়ে সর্বত্র বে-ওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আতংকজনক হারে বেড়ে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বে-ওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতংক রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক রোগী মারা গেছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ পৌরসভা ও এলএলপিভুক্ত টেকনাফ ৫০শয্যা হাসপাতালে কুকুরসহ বিষাক্ত জন্তুর কামড় বা আঁচড়ের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্ত বিশেষতঃ গরীব অসহায় রুগীরা যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতাল বা পৌরসভা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিকিৎসার অভাবে ঝাঁড়ফুক, কলাপড়া, গুড়পড়া, কালসুতাপড়া, শীশাপড়া, তাবিজ ইত্যাদি দিয়ে বা গ্রামাঞ্চলের হাতুড়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাঃ সামসুজ্জাহান রকিবুন্নেছা চৌধুরী বে-ওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতংক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে মন্তব্য করে জানান, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গ্রামের রসিদ আহমদের পুত্র মোঃ আলম (৩৫) বে-ওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতংক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার লিখিত প্রতিবেদন পেয়ে জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় এনে বে-ওয়ারিশ কুকুর নিধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও টেকনাফ পৌর মেয়রকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্ত এ যাবৎ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি শাহপরীরদ্বীপে বে-ওয়ারিশ কুকুরের দল একসাথে ৬/৭জনকে কামড় দিয়েছিল। তবে তারা দ্রুত হাসপাতালে এসে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৪ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়া উলা মিয়া প্রকাশ বদুর বাপের পুত্র নুরুল কবির (৩০) বে-ওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিল। যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহন না করায় জলাতংক রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। খুব দ্রুত অবধারিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হলেও বর্তমান প্রচলিত চিকিৎসায় নিরাময়ের কোন সুযোগ নেই। যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুখঃজনক।
তিনি বলেন, কাউকে কুকুর বা বিষাক্ত জন্তু কামড়ালে ও আঁচড় দিলে দ্রুত ক্ষত স্থান ক্ষারযুক্ত সাবান (স্থানীয় ভাষায় বাংলা সাবান) দিয়ে ভালমত ধুয়ে ফেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে টেকনাফ উপজেলায় বে-ওয়ারিশ কুকুর নিধন করা হয়নি। উপজেলার সর্বত্র বিশেষতঃ সেন্টমার্টিনদ্বীপ, উপকুলীয় জনপদ বাহারছড়া, শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, পৌরসভা প্রাঙ্গণ, থানার অভ্যন্তর, স্টেশনসমুহ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের আঙ্গিনায় বে-ওয়ারিশ কুকুর দলবদ্ধভাবে অবস্থান করলেও প্রশাসন এব্যাপারে নির্বিকার।


















