নানিয়ারচরে পাহাড়ি গ্রামে হামলা ও কাপ্তাইয়ে উমাচিং মারমা’র ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মহালছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ

18-12-2014 picture
নিজস্ব প্রতিনিধি, মহালছড়িঃ
রাঙামাটির নান্যাচর উপজেলার বগাছড়িতে পাহাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও কাপ্তাইয়ে উমাচিং মারমা’র ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে ইউপিডিএফ সহ ৪ সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় মহালছড়ি’র বাবু পাড়ায় ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আয়োজনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি পলাশ চাকমা’র সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক সর্বানন্দ চাকমা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফ মহালছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক অলকেশ চাকমা, পার্বত্য নারী সংঘের সভানেত্রী সোনালী চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহবায়ক জিকো ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি তপন চাকমা প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বিজয় দিবসের দিন বগাছড়িতে পাহাড়ি গ্রামে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘বাঙালিরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পাহাড়িদের ৩টি গ্রামে ৫৭টি বসতবাড়ি ও ৪টি দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাঙ্গালীরা একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা, ধর্মীয় গুরুকে মারধর ও বুদ্ধমূর্তি লুট করেছে’।

বক্তারা আরো সরকারের দোষারোপ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই বাংলাদেশে নানা সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু কোন সরকারই পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের মঙ্গলের জন্য এগিয়ে আসেনি। এই দেশের শাসকশ্রেণী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগণসহ দেশের সাধারণ জনগণকে বিভিন্নভাবে শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে দেশ শাসন করছে। এই শাসকচক্র পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য কখনো ভূমি বেদখল, কখনো পাহাড়ি নারী নির্যাতন-হত্যা, কখনো সাম্প্রদায়িক হামলা কিংবা কখনো কখনো পাহাড়ি দালালদের দিয়ে আন্তঃজাতিগত বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, অবিলম্বে কাপ্তাইয়ে উমাচিং মারমা’র হত্যাকারী ও পাহাড়ি বসতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক উস্কাানি ও হামলা বন্ধ করার দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বাবুপাড়া থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মহালছড়ি বাজারের পেপারবোর্ড পর্যন্ত গিয়ে ঘুরে এসে বাবুপাড়ায় এসে মিছিল শেষ হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন সকালে নান্যাচড় উপজেলায় বাঙালিদের আনারস বাগান ও সেগুন গাছ কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের গ্রামে ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন