বাসে বুদ্ধের ছবি ব্যবহারে সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

fec-image

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য চালু হওয়া ছাদ খোলা বাসে দু পাশে ধর্মীয় ছবি ব্যবহার করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এতে সমালোচনা মুখে পড়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হোটেল হিলভিউ ট্যুরিস্ট বাস স্বত্বাধিকারী কাজল কান্তি দাশ।

আজ সকালে উদ্বোধন শেষে বাসের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে ধর্মীয় দুটি ছবি নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠে। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতে দেখা যায়, সাঅং মারমা নামে নিজেই আইডি থেকে লিখেছেন ‘খোলা ছাদ বাসে বুদ্ধ ধাতুর ছবি ও বুদ্ধ মুর্তি ছবি ব্যবহার বুঝলাম নাহ’ বুক্য মারমা আইডি থেকে দেখা গেছে ‘বুদ্ধের পবিত্র জাদি ও বুদ্ধের প্রতিবিম্ব ছবি অতি তাড়াতাড়ি মুছে ফেলা হোক”। এছাড়াও জমক মারমাসহ শতাধিক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মের প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা। কেউ তিব্র নিন্দা জানান আবার কেউ সড়িয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

জানা গেছে, বান্দরবান – কেরানীহাট সড়কের ৪ কিলোমিটার দূরে কানা পাড়াতে অবস্থিত বুদ্ধধাতু বিহার। সেখানে ৫৫ ফুট উচ্চতার দণ্ডায়মান বৌদ্ধমূর্তি। বিহারে মূর্তির পাশে রয়েছে একটি সুদৃশ্য গেট, দুটি সিংহ, দুটি ড্রাগন, দুটি হাতি, একটি প্যাগোডা, একটি ফোয়ারা আর একটি আকর্ষণীয় আসন’সহ বিভিন্ন স্থাপনা । সেখানে প্রতিদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা জন্য ওই বিহারে যান।

অন্যদিকে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে উপশহর বালাঘাটাস্থ পুল পাড়া নামক স্থানে স্বর্ণমন্দির এর অবস্থান যা মহাসুখ মন্দির বা বৌদ্ধ ধাতু জাদী নামে পরিচিত। সেখানে পর্যটকদের জন্য এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতিদিন সে বিহারে প্রার্থনা জন্য ছুটে যান বৌদ্ধ অনুসারীরা।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, পর্যটক নামে যে ছাদ খোলা বাসে দুপাশে ধর্মীয় দুটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তা বৌদ্ধ ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রকে আকৃষ্ট করে তোলতে ও ব্যবসা চাঙ্গা করার জন্য বুদ্ধ মূর্তি ও বুদ্ধ ধাতু জাদিকে এভাবে ব্যবহার করা উচিত হয়নি। এতে অন্য ধর্মকে অপমান করা হয়েছে। তাই দ্রুত মুছে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান বৌদ্ধ অনুসারীরা।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সাঅং, অংসিং মারমাসহ বেশ কয়েকজন বলেন, পর্যটকদের জন্য যে ছাদ খোলা বাস উদ্বোধন করা হয়েছে তাতেই আমাদের কোন সমস্যা নাই। কিন্তু বাসে দু পাশে বুদ্ধমূর্তির ও বুদ্ধধাতু জাদিকে পর্যটন স্থান হিসেবে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তাতেই বৌদ্ধ ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে। যে যার ধর্মের কাছে এটি বড় বিষয়। তাই ধর্মের ছবি সড়িয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হোটেল হিলভিউ ট্যুরিস্ট বাস স্বত্বাধিকারী কাজল কান্তি দাশ সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি আর বুদ্ধ ও স্বর্নমদিরে জাদী ছবি কাল তুলে ফেলা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তবে এবিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দেনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন মন্তব্যে পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন