বিদ্যুৎ এর লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ পানছড়িবাসী

শাহজাহান কবির সাজু:
মিনিটে মিনেট বিদ্যুতের লুকোচুরির সাথে লোডশেডিং আবার কখনও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন এভাবেই জীবন চলছে পানছড়িবাসীর। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই পানছড়িতে রয়েছে বিজিবি জোন, সেনা সাব জোন, পুলিশ স্টেশন, সরকারী-বেসরকারী ও ব্যবসায়ীক হাজারো প্রতিষ্ঠান। এমনিতে গত কয়েকদিনের টানা অসহনীয় দাবদাহের সাথে অসহনীয়ভাবে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। তাই জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।

পানছড়ি বাজারের নোয়াখালী মার্কেট এলাকায় কাজের ফাঁকে কয়েকজন বসে লুডু খেলা ও আলাপচারিতার ফাঁকে একজন অন্যজনকে বলছিলেন “বাইচা কারেন্ট আইছে”। অন্যজন উত্তর দিল “কারেন্টের কোয়ালে হিছা মার”, “ইডা খালি আইয়ে আর যায়”। ভদ্র লোকের ঐ কথায় সহপাঠিদের মুখে হাসি ফুটে ওঠার দৃশ্যও ছিল চমৎকার। দাবদাহের সাথে যুদ্ধ করে এ যেন অনেক কষ্টের হাঁসি।

সামনে সমাপনী, পিএসসি, জেএসসি ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিদ্যুৎহীনতার কারণে মোমবাতির নিভু নিভু আলোর মাঝে ঠিকমত পড়াশোনা করতে পারছে না। এছাড়াও ২৪ ঘন্টায় ৪৮ বারের অধিক লোডসেডিং বিদ্যুৎ বিভাগ যেন নিত্যদিনের রুটিন করে দিয়েছে। যার কারণে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।

এদিকে বিভিন্ন অফিস আদালত থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলো পানির সমস্যায় জর্জরিত। লো ভোল্টেজে মোটর দিয়ে যেমনি পানি উঠছে না তেমনি নিত্য ব্যবহৃত ফ্রিজ, টেলিভিশন, টেবিল ফ্যান, সিলিং ফ্যানগুলো নষ্ট হচ্ছে বার বার। এই দুরবস্থা কেটে উঠতে যার যার ধর্মমতে দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করছে ঘরে ঘরে।

অনেকের ধারণা পানছড়িতে বিদ্যুতের সাব স্টেশন চালু হলে লোডশেডিং, লো-ভোল্টেজ ও গ্রাহক হয়রানী বন্ধ হবে।  বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে গ্রীড লাইন চালু না হওয়া পর্যন্ত এই উপজেলায় বিদ্যুতের কোন পরিবর্তন ঘটছে না। এই গ্রীড লাইন পেতে আনুমানিক ৪বছর সময় লাগবে বলেও জানা গেছে।

এদিকে সপ্তাহে শনি ও সোমবার বিদ্যুতের ঘোষিত ছুটি থাকলেও অঘোষিত ছুটি থাকে সপ্তাহে ৫ দিন। বিদ্যুতের এ দুরবস্থা ও লো-ভোল্টেজের ব্যাপারে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি বিদ্যুত বিভাগে পানছড়ির দায়িত্বে থাকা আরআই সোহাগ জানান, অটোবাইকের সংখ্যা খাগড়াছড়ির তুলনায় পানছড়িতে অনেক বেশী। এসব অটোবাইকের ব্যাটারি চার্জের কারণেই ভোল্টেজ লো হচ্ছে। তাছাড়া গ্রীড লাইন চালু হলে বিদ্যুতের সমস্যা থাকবেনা বলে তিনি জানান। গ্রীড লাইন কখন চালু হবে তার নির্দিষ্ট কোন সময় দিতে পারেননি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন