মাটিরাঙ্গায় নার্সের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ


খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা বাইল্যাছড়ি রাবার বাগান এলাকার বাসিন্দা দিন মুজুর ইন্দ্র ত্রিপুরার স্ত্রী চন্দনা ত্রিপুরা (২৪)। রবিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে তার পেট ব্যাথা হলে মাটিরাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হন।
এসময় নার্স নুনুপ্রু চৌধুরী তাকে দেখে কোন প্রকার পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই বলেন, তার পেটে বাচ্চা মারা গেছে। এম আর করতে হবে। না হয় রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ জন্য তিনি দশ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা দিতে না পারলে সেবা দেয়া যাবেনা জানিয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে হবে বলে ভয়-ভীতি দেখান। এসব শুনে ভুক্তভোগী ও তার আত্মীয়স্বজন এম আর করাতে সাত হাজার টাকায় দফারফা করেন।
এক পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করে আরো দেড় হাজার টাকাসহ মোট সাড়ে আট হাজার নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চন্দনা ত্রিপুরা।
চন্দনা ত্রিপুরার স্বামী ইন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আমি কাম (কাজ) করে সংসার চালায়। নার্সের কথা শুনে স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে তার কানের দুল ও ছাগল বিক্রি করে এবং মানুষের কাছ থেকে ধার করে টাকা জোগাড় করে নার্সকে দিয়েছে। এ বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেছে নার্স। জানালে ভবিষ্যতে অনেক খারাপ হবে বলে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ইন্দ্র ত্রিপুরা।
অভিযোগ আছে, কোন গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও কর্মরত ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া সরকারি হাসপাতালে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রায় সময় এসব কাজ করে থাকেন নুনুপ্রু চৌধুরী।
পক্ষান্তরে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে উদাসিনতা ও চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময়ে বাচ্চা মারা যাওয়া ও মায়ের সন্তান ধারণ ক্ষমতা হারানোর মত ঘটনাও ঘটেছে। যার জন্য জরিমানাও দিতে হয়েছে নুনুপ্রুকে।
অভিযুক্ত নার্স নুনুপ্রু মারমা বলেন, গাইনি বিষয়ক স্পেশাল প্রশিক্ষণ রয়েছে তার। তাই এসব ব্যাপারে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন নেই। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা স্বেচ্ছায় আমাকে টাকা দিয়েছে। আমি তাদের কাছে টাকা চাইনি।
রোগীদের সাথে খারাপ আচরণের কথা অস্বীকার করে নুনুপ্রু বলেন, আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। কয়দিন আগেও মাটিরঙ্গা পৌর মেয়র অন্যায়ভাবে আমাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
নবাগত হাসপাতাল পরিচালক (টিএস) আবুল হাসনাত জানান, বিষয়টি অবগত নই। অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্ত সিনিয়র নার্স নুনুপ্রু চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















