মুক্তিপণ দিয়েও বাঁচতে পারেনি মঞ্জু শেখ, প্রশাসন বলছে অভিযোগ ভিত্তিহীন

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক এলাকা থেকে গত ২৯ জুলাই রাতে মো. মঞ্জু শেখ’কে (৫৮) ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয় এবং জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এদিকে গত ৬ আগস্ট রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবস্থায় মারা যান মঞ্জু শেখ।
মঞ্জু শেখের মৃত্যুর পরে বেরিয়ে এল চাঞ্জল্যকর তথ্য।

তার পরিবারের অভিযোগ, মঞ্জু শেখ একজন আলু ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসার কাজে কক্সবাজার আসেন। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। আর ব্যাপক মারধর করে আঘাত করা হয় মুক্তিপণের জন্য। পরে বিকাশের মাধ্যমে দাবীকৃত এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েও ইয়াবাসহ তাকে আটক দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আর আহত অবস্থায় তাকে জেলে রাখা হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জু শেখের মৃত্যু হয়। মঞ্জু শেখ হলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদি খাঁন থানার মালখানা ঘর গ্রামের মৃত শেখ বাদশা মিয়া’র ছেলে।

এদিকে ডিবি পুলিশ বলছে বিষয়টি সঠিক নয়, তার কাছ থেকে কোন ধরনের মুক্তিপণ নেওয়া হয়নি। আর মঞ্জু শেখ হলেন একজন মাদক ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে জেল কর্তৃপক্ষ বলছে, মঞ্জু শেখ’কে আহত অবস্থায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আর তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সোমবার সকালে মঞ্জু শেখে’র লাশ নিতে আসা স্বজনদের মধ্যে তার ভাই মোহাম্মদ আউলাদ হোসের সরদার জানান, ৩০ জুলাই বিকালে মঞ্জু শেখের মোবাইল থেকে তার ঘরের মোবাইলে এক নারী ফোন করে বলেন, মঞ্জু শেখ সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে। তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে মঞ্জু শেখ নিজেই ফোন করে বলেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে তাদের কথা অনুযায়ী ৩০ জুলাই রাত ১০টার মধ্যে বিকাশ নাম্বার (০১৭৭৯৭০৯০৮০) ১৬ বারে বিভিন্ন অংকে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু মুক্তিপণ দেওয়ার পরেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। মারধরের আঘাতে তার হাত ভেঙ্গে যায়। মাথায় আঘাত লাগে। পরে ইয়াবাসহ তাকে আটক দেখানো হয় এবং আহত অবস্থায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে তার অবস্থা আশংকাজন হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর রবিবার রাতে ১১টার দিকে ফোন করে বলা হয় মঞ্জু শেখ মারা গেছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার অপারেশন অফিসার মাঈনুদ্দিন জানান, মো. মঞ্জু শেখসহ আরেক ব্যক্তি ইয়াবাসহ ডিবি’র হাতে আটক হয়। মঞ্জু শেখের কাছে এক হাজার। আর অন্যজনের কাছে দেরহাজার ইয়াবা পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর মঞ্জু শেখ হলেন সেই মামলার দ্বিতীয় আসামী। এছাড়া মঞ্জু শেখে’র মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জানলেও এর কারণ সর্ম্পকে তিনি জানেন না।

এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার জেল সুপার’কে একাধিকবার ফোন করলে কথা বলা যায়নি। পরে কক্সবাজার জেলের আরেক কর্মকর্তা অর্পণ’এর সাথে কথা হলে তিনি নিশ্চিত করেন জেলে ডুকানের সময় মঞ্জু শেখ আহত অবস্থায় ছিলেন। তার হাতে বেন্ডিস ছিল। আর তাকে গত দুই’দিন আগে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এ ব্যাপারে ডিবি ইন্সপেক্টর সুকেন্দ্র সরকার জানান, মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি সত্য নয়। ডিবি’র কাছে তথ্য আছে তিনি একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী এবং ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। আর ওই দিন তিনি মাদকসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন