রাঙামাটির কাউখালীতে বিদ্যুতে পুড়ে অঙ্গার হলো নানী নাতি

kawkhai Electric dath news pic

আরিফুল হক মাহবুব, কাউখালী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাউখালীতে বিদ্যুতের তার (ক্যাবল) ছিড়ে দু’জন মারা গেছেন। এরা হলেন রহিমা বেগম (৪৫) ও তার মেয়ের ঘরের একমাত্র নাতি মোঃ অনিক (৬)। শুক্রবার সকাল এগারটায় কাউখালী-রানীহাট সড়কের বেতছড়ি পাইন বাগান এলাকার জনৈক আজিমের চা দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

তবে নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করছেন তাৎক্ষনিকভাবে দফায় দফায় ফোন করলেও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ করেনি কাউখালী বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ নিলু কান্তি বড়ুয়া।

ফলোআপ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার বেতছড়ি পাইন বাগান এলাকার চা দোকানী মোঃ আজিম উদ্দিন প্রতিদিনের ন্যায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এসময় আজিম উদ্দীনের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫) ও তার মেয়ের ঘরের একমাত্র নাতি মোঃ অনিক (৫)সহ আরো ছয়-সাত জন লোক দোকানের ভেতরে অবস্থান করছিল। সকাল সোয়া এগারটার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে আজিম উদ্দীনের দোকান ঘরের টিনের চালে আগুন ধরে যায়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুন চতুর্দিকে ছড়ি পড়লে সবাই দোকান থেকে বেরিয়ে পড়ে। এসময় রহিমা বেগম তার নাতি অনিককে নিয়ে তারাহুড়া করে দোকান থেকে বের হতে গেলে দোকানের উপর ছিড়ে পড়া তার তাদের উপর পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই নানী ও নাতির মৃত্যু ঘটে। বৈদ্যুতিক ছেড়া তারের আগুনে মুহুর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা ধুয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধারে এগিয়ে আসলেও ভয়ে কাছে যেতে সাহস পায়নি। নিহত দু’জনের হাত-পা ও শরীরে বিভিন্ন অংশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। পরে স্থানীয়রা দুজনকেই দুপুরে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। মেডিকেল সহকারী আনন্দ বড়ুয়া রোগীর কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই মৃত ঘোষণা করায় মূহুর্তে হাসপাতালে ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুর্তুজা ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে আমি এবং একজন সহকারী ছাড়া কোন ডাক্তার নাই।

নিহত রহিমার ছোট বোন আমেনা বেগম (৩৬) ও স্থানীয় বাসিন্দা আমির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ঘটনার সাথে সাথে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলেও সঞ্চালন লাইন বন্ধ করা হয়নি, নইলে নিহতদের বাঁচানো যেতো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুকনো বাঁশ দিয়ে নিহত দুজনকেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থেকে আলগা করেন আমেনা। কাউখালী সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে এক কিলোমিটার দুরত্বের ঘটনাস্থলে দুপুর ১২ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন যায়নি। এমনকি দপ্তরটিতেও ছিল তালা ঝুলানো। তবে সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী হাসির উদ্দিন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে লাইন বন্ধ করেছি। সম্ভবত পাখি বসে শর্টসার্কিট হয়ে এই দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন