রাজস্থলীতে বাড়ছে ম্যালেরিয়া রোগী : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গত জুন মাসে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে শতাধিক ম্যালেরিয়া রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাদের অধিকাংশ রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে এখনো জ্বর পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেশি। এছাড়া রাজস্থলী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রবিবার (১৩ জুলাই) রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মকর্তা জানান, উপজেলার ২নং গাইন্দ্যা ইউনিয়নের দুর্গম চুশাক পাড়া, নারাইছড়ি, বলি পাড়া, আড়াছড়ি পাড়া এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন দুমদুমিয়া সাইচল জিকজাকের দুর্গম এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুভার্ব বেশি দেখা দিচ্ছে। এসব এলাকা থেকে বেশি রোগী এসে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
গতবছরের তুলনায় এ বছর ম্যালেরিয়ার সনাক্তের হার বেশি। গত বছরের জুন মাসে যেখানে গড়ে ১০ জন ম্যালেরিয়া রোগী এবং সারা বছরে ২১৫ জন রোগীর ম্যালেরিয়া সনাক্ত হলেও এই বছর শুধুমাত্র জুন মাসে হাসপাতালের বেডে ৫৯ জন রোগী ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্ষা শুরু হবার পর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নারী ও পুরুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরো জানায়, সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্র্যাক মিলে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করায় এই উপজেলায় এখনো কোনো রোগী এ রোগে মৃত্যুবরণ করেনি। এই বিষয়ে জনগণকে আরোও বেশি সচেতন হতে হবে, মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং জ্বর হলেই ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করাতে হবে। এছাড়া পার্বত্যঞ্চলে ভ্রমণকারী সকলকে ফিরে যাবার পর জ্বর হলে অবশ্যই ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করতে হবে।
এদিকে হাসপাতালে কর্মরত নার্সিং সুপারভাইজার থুইমাচিং মারমা বলেন, ১৩ জুলাই পর্যন্ত ১১জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং গত জুন মাসে ২০০ জনের মধ্যে ৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের হাসপাতালে লোকবল সংকট, নেই আয়া ক্লিনার, কুকার। তবে পর্যাপ্ত অষুধ সরবরাহ আছে।
কথা হয় হাসপাতালের পেট ব্যথা ও জ্বরের আক্রান্ত রোগী সাইমন এর সাথে। তিনি বলেন, আমি দুর্গম সীমান্ত সড়কে কাজ করার জন্য আসছি হটাৎ জ্বর বমি ও পেট ব্যথা হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছি, বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।
এসময় কথা হয় হাসপাতালে ভর্ত্তি হওয়া রোগী গাইন্দ্যা ইউনিয়নের হ্নারা মুখ পাড়ার এক গ্রামের যুবতীর সাথে। তিনি বলেন, আমার জ্বর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।
এদিকে চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, ম্যালেরিয়া হচ্ছে একটি মশা বাহিত রোগ যা অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি হচ্ছে প্লাজমোডিয়াম নামে একটি পরজীবী রয়েছে যার কারণে এটি হতে পারে। যার কারণে যখন জ্বর হয় তখন সাধারণত মাথা ব্যাথা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর অবসাদ হয়। যদিও বর্তমান সময় এখন আরো নানারকম উপসর্গ দেখা দিচ্ছে এখন দেখা যাচ্ছে ডায়রিয়া হওয়া রোগীর ক্ষেত্রেও তারা ম্যালেরিয়া আক্রান্ত। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে বেশ কয়েক বছর যাবৎ।
ব্রাক স্বাস্থ্য কর্মসূচী রাজস্থলী উপজেলার ব্যবস্থাপক সঞ্চয় চাকমা বলেন, হঠাৎ করে দুর্গম রাজস্থলীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগকে সাথে নিয়ে আমরা এসব এলাকায় উঠান বৈঠক এবং মাইকিং করা হয় । এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের রক্ত পরীক্ষা, চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ইতিপূর্বে মশারি বিতরণ করছি। ম্যালেরিয়া উপদ্রুত এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে ম্যালেরিয়া পরীক্ষার রক্তকাঁচ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

















