রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বজ্রপাতে আহত ৬, আশঙ্কাজনক ২

fec-image

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ বজ্রপাতে ৫ পরিবারের অন্তত ৬ জন রোহিঙ্গা সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্প এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯ এর এ-২ ব্লকে হঠাৎ করেই প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গে শুরু হয় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাত। এ সময় বেশিরভাগ পরিবার তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে অবস্থান করছিল। ঠিক তখনই একটি শক্তিশালী বজ্রপাতের আঘাতে একাধিক পরিবারের সদস্য গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ক্যাম্প সংলগ্ন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

আহতদের মধ্যে নারী ও শিশু বেশি থাকায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আহতরা হলেন— মিনারা বেগম (২৯), পিতা: মোঃ শপি; নুর বেগম (২৫), স্বামী: মোঃ রফিক; ইসমত আরা (১৮), পিতা: কবির; নজিম উদ্দিন; শিশু হাসনা (৫) এবং আনোয়ার (৩), পিতা: হাসমত উল্লাহ। তারা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯ এর এ-২ ও এ-৩ ব্লকের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই আকাশে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন। তবে দুর্বল ও ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের কারণে অনেকেই সময়মতো নিরাপদ স্থানে যেতে পারেননি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত মানুষেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। বাঁশ, ত্রিপল ও টিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরগুলো বজ্রপাত বা ঝড়ের সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ক্যাম্পে বজ্রপাত প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন