শহীদ মিনারে বিরোধী দলীয় নেতা, চীফ হুইফ সহ অন্যান্যদের শ্রদ্ধা

fec-image

চব্বিশের অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অন্য বছর এই দিনে ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা, আলোচনার মত আয়োজন থাকলেও জামায়াতের কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিলেন এবারই প্রথম।

প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিন বাহিনীর প্রধানরা শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।

এরপরই জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা।

এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হুসেইনসহ অন্যরা ছিলেন।

শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়েই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মোনাজাত শুরু করেন। মোনাজাত করে বের হয়ে যাওয়ার সময় শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির।

এতদিন তো জামায়াত কখনো ফুল দিতে আসেনি শহীদ মিনারে এবার কী মনে করে এলেন–সেই প্রশ্ন এক সাংবাদিক করেন।

জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই আমি এসেছি।”

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনো ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি না–প্রশ্ন আসে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে।

জবাবে কিছুটা ক্ষুব্ধ হন শফিকুর রহমান। আরেকদিকে মুখ ঘুরিয়ে তিনি বলেন, “আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন। এইরকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।”

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে ৪৭ এ যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি, এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদেরকেও স্মরণ করি।

“বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি যে প্রশ্ন করেছিলেন তারা যে কারণে লড়াই করেছিলেন সেই প্রত্যাশা কতোখানি পূরণ হয়েছে–না সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব।

“জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সাথে আমরা আপস করব না।”

এরপর জামায়াত আমির বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে তিন ভাষা শহীদদের কবরে দোয়া ‍ও মোনাজাত করেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অমর একুশে, এনসিপি, জামায়াত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন