সীমান্তে ২৫ বছরে ৭ বার মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ, সম্মুখ যুদ্ধে এগিয়ে বাংলাদেশ !

fec-image

২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সর্বমোট ৭ বার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মুখোমুখি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। আর এসবের বেশিরভাগ ঘটনার নেপথ্যেই দেখা যায় সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাকারবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনধিকার চর্চা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয়দের লুটপাট, দখল, চোরাকারবারি, অতর্কিত হামলা— ইত্যাদি ঘটনাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দায়ী। তবে সম্মুখযুদ্ধের অধিকাংশ ঘটনার পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই এগিয়ে ছিলো।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ৭টি সংঘর্ষে বিজিবির ৫ সদস্য নিহত হলেও বিএসএফের নিহত সদস্যের সংখ্যা ১৮। এছাড়া কয়েকটি ঘটনায় উভয় দেশের বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সবচেয়ে বড় সংঘর্ষটি ঘটে ২০০১ সালে সিলেটের পদুয়া ও কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি সীমান্তে। ওই সংঘর্ষে ১৬ জন বিএসএফ সদস্য এবং ৩ জন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদস্য নিহত হন। পরবর্তীতে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরপর ২০০৫ সালে আখাউড়া সীমান্তে সংঘর্ষে বিএসএফের এক কোম্পানি কমান্ডার নিহত হন। ২০০৬ সালে জকিগঞ্জ সীমান্তে প্রায় ১৪ ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনায় উভয়পক্ষের হতাহতের পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়।

২০০৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বিজিবি সদস্য নিহত হন। ২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে চোরাকারবারিদের কেন্দ্র করে দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে সংঘর্ষে বিএসএফের এক সদস্য নিহত হন।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৮ মে সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে বেসামরিক বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে বিএসএফ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গত দেড় দশকে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে নিহত ও আহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত পতাকা বৈঠক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলা জরুরি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ, বিজিবি বিএসএফ, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন