পাকিস্তানে ইন্টারনেটে ধীরগতি, ভিপিএনকে দায় দিলেন পাকিস্তান প্রতিমন্ত্রী

fec-image

পাকিস্তানজুড়ে বেশ কদিন ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে ইন্টারনেট সেবা। অনেক জায়গায় তো ইন্টারনেট বন্ধই রয়েছে। বহু জায়গায় ইন্টারনেটের গতি একেবারেই কম। ফলে অসুবিধায় পড়েছেন দেশটির ফ্রিল্যান্সাররা।

ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় গ্রাহকদের সময়মতো কাজ শেষ করে দিতে পারছেন না ফ্রিল্যান্সাররা। ফলে কাজ হারাচ্ছেন অনেকেই।

মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। দেশজুড়ে বহু জায়গায় গতি ধীর, আবার অনেক জায়গায় ইন্টারনেটই বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাই দিচ্ছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ)।

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, ছবি বা ভয়েস মেসেজ পাঠাতে বা ডাউনলোড করতে দীর্ঘ সময় লাগছে; প্রায়ই তা করাও যাচ্ছে না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তান সরকার এক্স (আগের টুইটার) ব্লক করে দিয়েছে। ফলে নেটিজেনরা এখন ভিপিএন ব্যবহার করে এ সাইটে ঢুকছেন।

অভিযোগ উঠেছে, ভিন্নমতাবলম্বীদের কন্ঠরোধ করতে ইন্টারনেটে বিধিনিষেধ আরোপ করছে পাকিস্তানের সরকার। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে না পৌঁছায়, সেজন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফায়ারওয়াল ইনস্টল করেছে। সে কারণেই বড় আকারে ইন্টারনেট সেবা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে ইন্টারনেটের গতি ধীর হওয়া বা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী সাজা ফাতিমা খাজা।

প্রতিমন্ত্রী উল্টো অভিযোগ করেছেন, ভিপিএনের অতিরিক্ত ব্যবহার ইন্টারনেটের গতিকে প্রভাবিত করেছে। ভিপিএন ব্যবহারের ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ফোন ধীরগতির হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ আগস্ট) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে সাজা ফাতিমা খাজা বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার ইন্টারনেট ব্লক বা গতি ধীর করেনি।’ সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটির সমাধান করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কিছু অ্যাপ ডাউনলোড হচ্ছে না বলে মানুষ ভিপিএন ব্যবহার করছে। ‘ভিপিএন চালু করলে ফোন ধীরগতির হয়ে যায়।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএন) বা লোকাল ক্যাশ বাইপাস করে সরাসরি লাইভ সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ভিপিএন ব্যবহার করলে ওইসব সার্ভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ফোনে ভিপিএন ব্যবহার করার সময়ও হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, আপনার ডিভাইসের গতি আপনাআপনিই ধীর হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে ট্রাফিক বাড়লে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে কয়েকদিনের জন্য ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যায়।’

অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ ‘ফ্রেশ অ্যাকাউন্ট’ ছিল ফ্রিল্যান্সার মুহাম্মদ জুবায়েরের। ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে ১ হাজার ডলার আয় হচ্ছিল তার।

কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করে ফাইভার অ্যাকাউন্টে ঢকায় জুবায়েরের অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অ্যাকাউন্টতি ব্লকই করে দেওয়া হয়। এখন তাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন