নিজেদের ফেলা প্লাস্টিক আর্বজনায় বিব্রত গোসলে নামা পর্যটক

কক্সবাজারে ঘুরতে আসা অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য গোসলে নেমে সাগরের লোনাজলের স্পর্শ নেওয়া। আর এই স্পর্শ’ই এখন বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে সাগরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক আবর্জনায়। এবারে ঈদের টানা ছুটিতে লাখো পর্যটক আগমনের সৈকতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এনিয়ে পর্যটকরা দোষছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অসচেতন পর্যটকদের।

এই প্রসঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি বলছেন, আর্বজনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাসটবিন, সচেতনতামূলক মাইকিং ও সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড থাকলেও কিছু পর্যটক তা মানছেননা। তারা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করছেন। আর নিজেদের ফেলা প্লাস্টিক আর্বজনায় বিব্রত গোসলে নামা পর্যটক।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ব্যস্ত পয়েন্ট সুগন্দা, লাবণী ও কলাতলীতে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রের বালিয়াড়ি ও পানির অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিকের খালী বোতল, চিপসের প্যাকেট, বাচ্ছাদের পামপাস, কলার খোসা ও পলিথিন সহ নানা আবর্জনা। এসব আর্বজনার বেশিকিছু ভাসছে পানিতে। আর ওখানে গোসল করছেন পর্যটকরা।

এছাড়া দেখা যায়, সমুদ্র সৈকতে বসার চেয়ারের সাথে আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন থাকলেও ওখানে আর্বজনা ফেলা হচ্ছেনা। ওসব ডাস্টবিনের যতটুকুনা আবর্জনা আছে তার চেয়ে বেশি আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এর চারপাশে এবং চেয়ারের নীচে। একই চিত্র ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা প্রশাসকের দেওয়া ডাস্টবিনের চারপাশে। এছাড়া আর্বজনা নিদৃষ্ট স্থানে ফেলার জন্য সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড ও মাইকিং করা হলেও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলছেন পর্যটকরা। এমনও দৃশ্য দেখা গেছে, বীচে পড়ে থাকা এসব প্লাস্টিকের বোতল কুড়ানোর জন্য রীতিমত পথশিশু ও ভাঙ্গারীর লোকজন এসেছেন।

ইকবাল হোসেন নামে এক পর্যটক জানান, ‘ইট পাথরের নগরী ঢাকা থেকে এসেছি সুন্দর একটা পরিবেশের জন্য। কিন্তু এখানে এসেও একই দৃশ্য। এটি খুবই দুঃখ্যজনক। এরজন্য শুধু এখানকার কর্তৃপক্ষ’ই দায়ী নয় আমরা নিজেরাও দায়ী।’

সিলেট থেকে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসা রায়হান চৌধুরী জানান, কক্সবাজার ভ্রমণে এসে সাগরে গোসল করতে না পারলে ভ্রমনটাই বৃথা। কিন্তু পানিতে নোংরা দেখে আর গোসল করা হলোনা। এসব আবর্জনা নিশ্চিয়ই স্থানীয়রা এসে ফেলে যাননি। আমরা নিজেরাই করেছি। সুতরাং সবার সর্তক হওয়া উচিৎ।

কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা সুমাইয়া আক্তার জানান, সমুদ্র সৈকতের এত সুন্দর পরিবেশটা নষ্ট হয়ে গেছে আর্বজনার কারনে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা সী বিচটা যেন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি আমাদের মত বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও অনুরোধ, দয়া করে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলবেননা।

কক্সবাজার সী সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গনি জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে সী সেইফ গার্ড। প্রতিনিয়ত যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলা হোক। অনেকে তা মানেননা। এখানে লাখো পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। আমরা কাকে বারণ করব? এছাড়া মেহমানদের তেমন কিছু বলা যায়না। তারা সর্তক হলেই সমুদ্রের পাড় পরিষ্কার থাকে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) আপেল মাহমুদ জানান, বেড়াতে আসা পর্যটকদের মূল আর্কষন সমুদ্র সৈকত। তারা পানিতে গোসল করে। বালিয়াড়িতে বসেন। ভ্রমণ করে। তাই সৈকত পরিষ্কার রাখার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

যার প্রতিটি চেয়ারের পিছনে ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের ২৭ টি’সহ জেলা প্রশাসকের ডাস্টবিন রয়েছে। প্রতিনিয়ত ক্লিন করা হচ্ছে সাগর পাড়। রয়েছে মাইকিং ও বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে আর্বজনা ফেলার অনুরোধ।

এর পরেও কিছু পর্যটক অসতর্কতা বশত যত্রতত্র আর্বজনা ফেলছেন। তারা আমাদের মেহমান। তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবেনা। কিন্তু তারা একটু আন্তরিক হলেই পরিষ্কার থাকে সমুদ্রের পাড়।

সৌন্দর্য হারাচ্ছে সৈকতের দৃশ্য

ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, দৃশ্য, সৈকত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন