রুমায় সরকারি জমি অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

বান্দরবানের রুমা সদর ইউনিয়নে সরকারি জমি ও প্রাকৃতিক ঝিরি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি পেশায় রাজ মিস্ত্রী।
এলাকাবাসী ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন বলেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ মনির হোসেনের দাবি তিনি তার ক্রয়কৃত ৪ শতক জমিতে ঘর নির্মাণ করছেন।
এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছেন তাতে আশেপাশে থাকা সরকারি জমি ও ব্যক্তি মালিকানার জমির ওয়াল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝরনার পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। তাতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জমি ও স্থানীয়দের বসতবাড়ির ধসের আশঙ্কায় পড়বে। অভিযুক্ত ব্যক্তির এমন জবরদখলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আবদুল মামুন মিয়া রাজমিস্ত্রির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করায় পানি প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে তার বসত বাড়ি ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
সরকারি জমি ও প্রাকৃতিক ঝরনা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজমিস্ত্রি মনির এ প্রতিবেদকের মুঠোফোন কল কেটে দেন।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, স্থাপনা নির্মাণের আগে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নকশা বা ডিজাইনের অনুমোদন নেননি মনির হোসেন। নিজের ইচ্ছামতো নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ঘরের পাশে সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৪ লাখ টাকার একটি গভীর নলকূপও স্থাপন করে নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিরির ওপর ১৮টি আরসিসি পিলার, লোহার বীম বসিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর নিচ দিয়ে ঝরনার পানি প্রবাহিত হলেও স্থাপনার কারণে পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় অধিবাসী গাড়ি চালক মামুন পার্বত্যনিউজকে বলেন, রাজমিস্ত্রি মনির হোসেন অবৈধভাবে ঝরনার উপর ঘর নির্মাণ করছেন। ঝরনা বা ছড়ার ওপর আরসিসি পিলার বসিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে সরকারি ওয়াল অতিরিক্ত চাপে ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ওয়াল ভেঙ্গে গেলে আশপাশের ঘরবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা । এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, যেখানে ঘর নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগটি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















