সামিট গ্রুপে হাসিনাপুত্রের মালিকানা, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বছরে দেবেন ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার

fec-image

সামিট গ্রুপে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যবসায়ীক অংশীদারিত্ব রয়েছে বলে দাবি করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

বুধবার ( ২০ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানান তিনি।

সেখানে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের অংশ বিশেষের একটি ডকুমেন্টও যুক্ত করেন তিনি।

জুলকারনাইন সায়েরের পোস্টটি তুলে ধরা হলো :

“সাধারণত যা নিয়ে কাজ করি সে বিষয়ে কিছু লিখিনা, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা ও তার পঙ্গপালের আস্ফালন দেখে ভাবলাম অনেক কিছু যে এখনো জানার বাকি, জানানোর বাকি — সে বিষয়টা ওদের একটু অবহিত করা প্রয়োজন।

এখানে যে ডকুমেন্টটি দেখছেন সেটা হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের অংশ বিশেষ। ২২ পাতার ওই চুক্তির কেবল দুটি পাতা এখানে প্রকাশ করছি। যার অর্থ দাঁড়ায় সম্পূর্ণ ৩৪৬ পাতার ডকুমেন্টের মাত্র ২টি পাতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

যতটুকু তুলে ধরেছি সেখানে আপনারা দেখেছেন যে সামিট কমিউনিকেশনে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মালিকানা রয়েছে, আদালতের কাছে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর করা এই চুক্তিতে জয় তার স্ত্রীকে এককালীন ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত প্রতিমাসে ক্রিস্টিনাকে ২০,০০০ ডলার করে প্রদান করবেন এমনটাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।

যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতিবছর সজীব ওয়াজেদ জয় তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বছরে ২৪০,০০০ ডলার (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার মার্কিন ডলার), ১০ বছরে সর্বমোট ২.৪ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবেন। এছাড়াও চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময় ১জুন, ২০২৫ এর মধ্যে ট্যাক্স ফ্রি ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবেন বলেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
হাসিনা সরকারের শাসনামলে ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হয়েছে যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ অন্যতম। আবার হাসিনার পুত্রেরই রয়েছে সামিটের সাথেই ব্যবসায়ীক অংশীদারিত্ব? ব্যাপারটা কি চরম স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে গেলো না?
আর এতসব অর্থই বা জয় সাহেব কিভাবে উপার্জন করলেন? এত এত ট্রাস্টের নেপথ্যে যে অর্থ সেসব কিভাবে সংগ্রহ করা হলো?
সম্পূর্ণ ডকুমেন্টটিতে এমন বহু-বহু তথ্য রয়েছে, সেসব যখন সামনে আসবে, তখন শির উঁচু করে প্রত্যাবর্তন খোয়াবের পরিবর্তে, মাথায় একটা লাইনই ঘুরপাক খাবে, আর তা হলো — ধরণী দ্বিধা হও।“

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: জয়, দুর্নীতি, হাসিনা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন