ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুশ একর বাগান ভস্মীভূত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বড়ইতলী, মনজয়পাড়া দুটি গ্রামের প্রায় দুশ একর বনজ ও ফলজ বাগানে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে অন্তত কোটি টাকার বাগান। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়ইতলী পার্শ্ববর্তী ছন ক্ষেত থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দুটি গ্রামের চতুর্পাশে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ২০ ঘণ্টার অধিক আগুন জ্বলতে থাকে।
প্রশাসন সূত্রে খবর পেয়ে দমকল বাহিনী মনজয়পাড়া এলাকায় পৌঁছলেও পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজে তারা সম্পৃক্ত হতে পারে নি। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিজিবির কর্মকর্তাসহ বুধবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু শাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের অগ্নিকাণ্ডস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় চৌকিদার ছৈয়দ আলম জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার পর পাহাড়ে আগুনের লেলিহান শিখাঁ ছড়িয়ে পুরো এলাকা আলোকিত হয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা চারপাশ থেকে একত্রিত হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোন সুযোগ ছিলনা। অগ্নিকাণ্ডে ৩-৪টি বসতঘরসহ প্রায় দুশ একর বনায়ন পুড়ে যায়।
ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কেমরু জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২৫ একর বাগানসহ স্থানীয় বাসিন্দা অংচি প্রু, রবিন্দ্র কারবারী, অংছি থোয়াই, সজল বড়ুয়া, মংফু চিং, কালাইয়া চাকমা, উক্যহ্লা, অংক্যউ, শাহ আলম, ছৈয়দ, নুরুল আলম, মংফুইল্যা, অংছাহ্লা, মংচাইখিং, লাথোয়াই মং, ছাদানু, লালু, নিতাইপ্রু, আহরল, মংনিয়া, পাইংক্য, জাংফিরোজ, বদাইয়া, ছেহের আলী, জন, হায়দার আলী, দিনেশ বড়ুয়া, রোস্তম আলী, আবদুল আলম, সিরাজ, বাদশা, শাহাজাহান, নুর হোছনসহ অন্তত ৫০-৬০ বাসিন্দার সৃজিত বনজ-ফলজ বাগান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায় নি, তবে স্থানীয়দের তথ্য মতে আগুনে তাদের অন্তত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ছনক্ষেত থেকে সিগারেটের আগুনের সূত্রপাত হতে পারে ধারনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুমেন তংচঙ্গ্যা।
এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নিবার্হী অফিসার আবু শাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় জনসাধারণের সৃজিত বাগানে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানা যায় নি।
যোগাযোগ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের জানান, অগ্নিকাণ্ডে নাশকতামূলক কোন কারণ নেই।


















