অব্যাহত নদীর ভাঙ্গন ও পাহাড় ধ্বসে বিলীনের মুখে ৩৫ বছরের মাটিরাঙ্গার দারুছুন্নাহ মাদ্রাসা
নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা দারুছুন্নাহ মাদ্রাসা গত ৩৫ বছর যাবত এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি মাটিরাংগার দুর্গম পাহাড়ে ছড়াচ্ছিল শিক্ষার আলো। অবহেলিত এই জনপদ যখন শিক্ষার আলোয় আলোকিত,তখন প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতির রোষানলে পড়ে নিজেই আঁধারে। একদিকে নদীর ভাংগন আতংক, অন্যদিকে পাহাড় ধ্বসের বিভীষিকায় কোমলমতি ৩ শতাধিক ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
সরেজমিন ঘুরে এসে জানা যায়, শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৮১ সালে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাংগায় স্থাপন করা হয় মাটিরাংগা দারুছুন্নাহ মাদ্রাসা। এখানে নুরানী,প্রথম থেকে এবতেদায়ী ও ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পায় স্থানীয় কোমলমতি গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করেছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। বর্তমানেও সাড়ে তিনশ ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করছে এখানে। এর মধ্যে শতাধিক ছাত্র থাকে আবাসিক ব্যবস্থায়।
কিন্তু একদিকে মাদ্রাসার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলীয়া নদীর অব্যাহত ভাংগন আতংক, অন্যদিকে পাহাড় ধ্বসের বিভীষিকায় রয়েছে, মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানটি নিজেই পড়েছে আঁধারে। বিগত দু’বছরে প্রতিষ্ঠানটির দুইটি ছাত্রাবাস, প্রশাসনিক ভবন ৫টি, রান্নাঘর ও দু’টি টয়লেট চলে গেছে খালের পেটে। আর গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এখন হুমকির মুখে পাঠদানের কক্ষ, নতুন করে তৈরি করা ছাত্রাবাস আর মাদ্রাসা সুপারের বাসা। ছাত্র-শিক্ষক আর অভিভাবক সবারই দাবী প্রতিষ্ঠানটি বাঁচানোর।
৫ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ শাহ আলম জানান, একদিকে নদী ভাংগছে, অন্যদিকে পাহাড় ধ্বসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে রাতে আমরা ছাত্রাবাসে ঘুমাতে পারিনা। মসজিদে থাকতে হয়। নদী ভাংগতে ভাংগতে ক্লাসের কাছে চলে এসেছে। এতে করে আমাদের নিয়মিত পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে।
এলাকাবাসী মুহাম্মদ আলী খোকন জানান, বিগত কয়েক বছরে মাদ্রাসাটির অনেক কিছু এ ধলিয়া খালের ভাংগনে চলে গেছে। এখনি সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাঁচালে এলাকার উপকার হবে।
পরিচালনা পরিষদের উপদেষ্ঠা আব্দুর রহিম জনান, ১৯৮১ সালে তারা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি হুমকির মুখে। সরকারিভাবে একটি বাঁধ বা গার্ড ওয়াল দিয়ে মাদ্রাসাটিকে রক্ষার দাবী জানান তিনি।
মাটিরাংগা দারুছুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওঃ আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী বলেন, প্রতি বছরেই নদী ভাংগনে মাদ্রাসাটি বর্তমানে চরম হুমকির মুখে। মাদ্রাসাটি সরিয়ে অন্যদিকে করার কোন জায়গা নেই । তিনি সরকারি ভাবে পদক্ষেপ নিয়ে মাদ্রাসাটি রক্ষার দাবী জানান।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান, মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন; খালের ভাংগনের কারণে মাদ্রাসাটির অবস্থা শুধু খারাপ নয় বরং খাগড়াছড়ি-ঢাকা বা খাগড়াছড়ি-চট্রগ্রাম সড়কের উপরের ব্রিজটি ও হুমকির মুখে। এগুলো রক্ষায় উপজেলা পরিষদ থেকে এতবড় প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে মাদ্রাসাটি রক্ষায় পদক্ষেপ নিবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।




















