ঈদগাঁওয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নারী নির্যাতন

প্রবাসী ছেলের মাদক বিরোধী পোষ্টকে কেন্দ্র করে দেশে যুবকের মা এবং বোনদের প্রকাশ্য দিবালোকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আহতরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা হচ্ছে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড চান্দের ঘোনার সৌদি আরব প্রবাসী তৈয়ব তাহেরের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৮), তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা কামেলা জান্নাত ও শিশু কন্যা মরিয়ম (৪)।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (২৯ মার্চ) বিকালে উক্ত স্থানে।
প্রবাস থেকে তৈয়ব তাহের জানান, তার সাথে প্রবাসে থাকা ছেলে ফয়সাল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলাকার কতিপয় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীর বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেন। যা নিয়ে ক্ষীপ্ত একই এলাকার আলতাজুর রহমানের পুত্র এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত শফি আলমের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন প্রবাসীর ঘরে গিয়ে পরিবারের মহিলা সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের এক পর্যায়ে বৃহদাকারের কাঠেরখণ্ড নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী পারভীন আক্তারকে সাপের মত মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকে। মায়ের চিৎকারে ঘরে থাকা দশম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা কামেলা এবং শিশু কন্যা মরিয়ম মাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাদেরও বেধড়ক পেটানো হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নির্যাতনকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার পরপর স্বজনরা ৯৯৯ নাম্বারে সহযোগিতা চাইলে ঈদগাঁও থানা পুলিশ আগে আহতদের চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
প্রবাসী তৈয়ব আরো জানান, তার পরিবারে পুরুষ সদস্য না থাকায় এবং আহতরা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় এখনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিকটিমের প্রবাসী স্বামী তাকে ফোনে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার এ বিষয়ে জানান, এরকম একটি ঘটনা তারা ৯৯৯ এর মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখনো কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত উক্ত শফির নেতৃত্বে এলাকার চিহ্নিত কিশোর-যুবকরা মাদকসেবন ও মাদক বিক্রিতে উদ্বেগজনক হারে জড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ এসব মাদক কারবারির সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যকে রাত-বিরাতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরা ফেরা,চায়ের টেবিলে ও দাওয়াত খেতে দেখা যায়। এতে করে হয়রানির ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলার কেউ সাহস করেনা। এমতাবস্থায় দিনদিনই এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ আন্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেলেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে এ মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

















