সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে ফিরছেন আরও ৩১১ পর্যটক

fec-image

রাঙামাটির পর্যটন নগরী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থেকে বাকি পর্যটকরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিজেদের গন্তব্যে ফিরে গেছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে হোটেল কক্ষ ত্যাগ করেন পর্যটকরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ পর্যটক সাজেক ছেড়েছিলেন।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫০ পর্যটক সাজেক ছেড়েছিলেন। শুক্রবার সকালে ৩১১ পর্যটক সেনা সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন।

এদিকে প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকা উজানের পানিতে ডুবে আছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যাদুর্গতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের রান্না করা খাবার এবং শুকনো খাবার হিসেবে চাল, ডাল, চিনি ও চিড়া বিতরণ করা হচ্ছে।

রাঙামাটির সাফছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ি এলাকায় মাটি সরে ৩৩ কেভি লাইনের দুটি পিলার হেলে যাওয়ায় রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পুরো শহর বিদ্যুৎবিহীন ছিল।

রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, জেলায় বিভিন্ন স্থানে ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত জেলার সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

প্রবল বর্ষণের সময় গত ৭ জুলাই জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. বদিউল আলম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে মো. বদিউল আলম মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে ফারুয়া বাজারের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নের গোয়েনছড়ি বিহার এলাকা-সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে সেখানে বৃষ্টির পানির কারণে মোটরসাইকেল চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে জানান, বাকি পথটুকু হাঁটলেই তিনি দোকানে পৌঁছাতে পারবেন। এরপর থেকেই বদিউল আলম নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ বদিউল আলম চট্টগ্রামের পশ্চিম রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা গ্রামের বাসিন্দা।

একই তারিখে রাঙামাটি সদরের মগবান ইউনিয়নের দলমনি চাকমা নামের এক ব্যক্তি নদী পার হওয়ার সময় ভেসে যান। পরে বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

এ ছাড়া একই দিনে পাহাড়ধসের ঘটনায় জেলার কাপ্তাই উপজেলায় দুই শিশু আহত হয়েছিল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি, সাজেক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন