বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা পাহাড় ভাঙ্গা পাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধান, নিরাপত্তা সহায়তা ও সমন্বয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি।
গত (১০ মে থেকে ১২ মে ) পর্যন্ত পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, সীমিত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন, সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাতায়াত ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় পুরো টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।
কর্মসূচির আওতায় পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের অধীন সাতটি দুর্গম মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাড়ায় মোট ২৭৭ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১০২ জন এবং ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী ১৭৫ জন শিশু টিকাসেবার আওতায় আসে।
টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় হাম ও রুবেলা রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধব্যবস্থা এবং টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা হলে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মাঝে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
কার্যক্রম চলাকালে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট আর্মি ক্যাম্পসমূহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
এ বিষয়ে আলীকদম সেনাজোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।