কমলছড়িতে ১৪৪ ধারা বহাল: ১২ সদস্যের শান্তি কমিটি: অপহৃত শহীদুলের সন্ধান মেলেনি এখনো
আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
পাহাড়ী-বাঙ্গালী টানা দু’দিন সংঘর্ষে পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় কমলছড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি অপহৃত কিশোর শহীদুল ইসলাম (১৩)’র। অপহৃত ছেলেকে ফিরে পেতে আকুতি নিয়ে কান্না আর আহাজারীতে এখন পাগল প্রায় তার মা ফরিদা বেগম। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। অব্যাহত রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল। কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুপন খীসাকে প্রধান করে ৬ জন উপজাতী, ৬ জন বাঙ্গালী দিয়ে প্রশাসন ১২ জনের একটি শান্তি কমিটি গঠন করে দিয়েছে।
প্রথম দফায় মঙ্গলবার সংঘর্ষের জের ধরে ১৩ বছরের কিশোর শহীদুল ইসলাম তাদের গৃহপালিত ছাগল আনতে গেলে বাড়ী সংলগ্ন এক পাহাড় থেকে উপজাতীয়রা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শহীদুলের স্বজনদের অভিযোগ সবিতা চাকমার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে তাকে তারা ধরে নিয়ে গেছে অপহরনকারীরা। অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় কি ঘটেছে তার ভাগ্যে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে তার পরিবার।
খাগড়াছড়িতে উপজাতীয় গৃহবধু সবিতার মৃত্যু ইস্যুতে মঙ্গলবার ও বুধবার সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ির কমলছড়ি-ভূয়াছড়ি এলাকা। এতে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সংঘর্ষে দু’দিনে উভয় পক্ষের অনন্ত ২১ জন আহত হয়েছে। প্রথম দিনের সংঘর্ষের পর অপহৃত কিশোরকে খুজতে বাঙ্গালীরা উপজাতীয় এলাকায় গেলে ভুয়াছড়িস্থ বেতছড়ি খ্রীষ্টানপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। আহতরা বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলার ঘটনায় পাহাড়ি ও বাঙালীরা পরস্পরকে দায়ী করেছে।
বাঙালীদের অভিযোগ, উপজাতীয়রা গৃহবধু সবিতার মৃত্যু ইস্যুতে কাজে লাগিয়ে ৩য় কোন পক্ষের ইন্ধনে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির পায়তারা করছে। অন্যদিকে, পাহাড়িদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ হামলার জন্য তারা দায়ী নয়। খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারার এই নির্দেশ বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কমলছড়িতে সবিতা চাকমা (৩০) নামের এক গৃহবধু খুন হন। নারী অধিকার সংগঠন, পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠনগুলো এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে পাহাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও কে খুনের ঘটনার সাথে জড়িত তা স্পষ্ট না হলেও উপজাতীয়রা বাঙ্গালীদের দায়ী করে আসছে।




















