চকরিয়ায় ১০ ইউপি নির্বাচনে ৫৬২ জন প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ

fec-image

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপসিল মতে তৃতীয় ধাপে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দশটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচনে তপসিল অনুসরণে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত দিনক্ষণ ছিল ১২ নভেম্বর। ওইদিন ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন স্ব স্ব ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন।

তৃতীয় ধাপে চকরিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত যেসব ইউনিয়ন আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত সেই সব ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে, বদরখালী, পশ্চিম বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, ভেওলা মানিকচর (বিএমচর), পুর্ববড় ভেওলা, সাহারবিল, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর ও কাকারা। অনুষ্ঠিত্য এ নির্বাচনে ৫৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৎমধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৬৪ জন প্রার্থী। এছাড়াও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ১০ জন, জাতীয় পাটি (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত একজন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দশটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৬৪ জন প্রার্থী। এতে উপজেলার উপকূলীয় জনপদ বদরখালীতে ১০ জন প্রাথী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরে হোছাইন আরিফ (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাইম মো. হেফাজ (চশমা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (আনারস), আহসানুল কাদের চৌধুরী সাব্বির (মোটরসাইকেল), জাকের আহমেদ (ঢোল), আলী আকবর (অটোরিকশা), মিজানুর রহমান (ঘোড়া), শামসুদ্দীন (টেবিল ফ্যান) ও জসিম উদ্দিন (টেলিফোন)। পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াহেদ ফয়েজ মো. সামউনুল ইসলাম (চশমা), নিয়ামত উল্লাহ (মটর সাইকেল), নুরুল বশর চৌধুরী বাচ্চু (টেলিফোন), রবিউল এহেছান (আনারস)।

সাহারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহসিন বাবুল (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তৈয়ব (ঘোড়া), নবী হোছাইন (আনারস), আবদুল আলীম (অটোরিকশা), মাহমুদুল হাসান (মোটরসাইকেল), মুহাম্মদ খানে আলম (টেলিফোন) ও জুনাইদুল হক (চশমা)।

কোনাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাফর আলম ছিদ্দীকী (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল কাদের মানিক (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার (মোটর সাইকেল), মো. নুরুল কবির (আনারস), আবদুল মাবুদ (চশমা), মোহাম্মদ ইয়াছিন (ঘোড়া) ও আনোয়ারুল ইসলাম (রজনীগন্ধা)।

ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এস এম মঈন উদ্দিন আহমদ চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আলম (আনারস), কফিল উদ্দিন (ঘোড়া), মো. হোছনে মোবারক (চশমা), সাইফুল ইসলাম (টেলিফোন), ফরিদুল আলম (মোটরসাইকেল) ও মোহাম্মদ হোছাইন (অটোরিকশা)। ভেওলা মানিকচর (বিএমচর) ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বদিউল আলম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম (আনারস), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শাসমুল হক (হাতপাকা), নাছির উদ্দিন (ঘোড়া) ও মোহাম্মদ আলমগীর (চশমা)। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ফারহানা আফরিন মুন্না (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আনোরুল আরিফ (ঘোড়া), কামরুজ্জামান সোহেল (আনারস), মো. আব্দুল্লাহ (চশমা) ও মো. সালাহ উদ্দীন (মোটর সাইকেল)।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জন্নাতুল বকেয়া (নৌকা), স্বতন্ত্র আফজল-উর রহমান চৌধুরী (চশমা), বর্তমান চেয়ারম্যান মক্কি ইকবাল (ঘোড়া), মোহাম্মদ জকরিয়া (টেবিল ফোন), তৌহিদুল ইসলাম (মোটরসাইকলে), হিশাম উদ্দিন (অটোরিকশা), আনিচ উর রহমান জুয়েল (রজনীগন্ধা), মামুনুর রশিদ (টেলিফোন) ও আব্দুর রহমান আবেদ (আনারস)। কাকারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত ওসমান (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাব উদ্দিন (চশমা) ও মোহাম্মদ ইসমত-ই ইলাহী (আনারস)।

লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহি উদ্দিন মো. আওরঙ্গজেব বুলেট (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার (ঘোড়া), সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ (মোটরসাইকেল), মোহাম্মদ ওসমান (আনারস) ও সাইকুল ইসলাম (চশমা)।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ১০ ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠে সরগর হয়ে উঠে। কোনো ক্রমেই আমরা ভোটের মাঠকে ঘোলাটে করতে দেব না। সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইউপি নির্বাচন যেন উৎসব হতে পারে, সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া নির্বাচনে কোন ক্রমেই সহিংসতা ও সংঘর্ষের রূপ নিতে দেব না। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা এখন নিয়ম মেনে প্রচার চালাতে পারবেন। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে। কোন ধরনের শো-ডাউন, বড় ধরনের জনসভা ও তোরণ নির্মাণ করা যাবে না। তবে ঘরোয়া বৈঠকে প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। অনেক প্রার্থীর পক্ষে আগেই পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদারকি করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পশ্চিম বড় ভেওলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ায়ম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় আজকে থেকে দলীয় প্রতীক নিয়ে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতে চলেছে। যেহেতু আমি সরকার দলীয় দলের প্রার্থী। তাই আমাদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি খুব কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল উর রহমান চৌধুরী তার চশমা প্রতীক বুঝে নিয়ে বলেন, আমরা আজকে প্রতীক বরাদ্দ পেলাম। আজকে থেকে প্রতীক নিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কাজ শুরু হবে। আশা করি উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − two =

আরও পড়ুন