চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন কাটছে রাঙামাটির স্বপ্না চাকমার

fec-image

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম মৈদং ইউনিয়নের বারাবাইন্যাপাড়া গ্রামে জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বপ্না চাকমা (২০) মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অতি দরিদ্র জুমচাষি জলমনি চাকমা ও পদদল চাকমার এই কন্যা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পা দুটো অচল হওয়ায় চলাফেরা করতে না পারা এই তরুণী বর্তমানে জুরাছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ঘেরা দুর্গম এলাকায় ছোট একটি কুঁড়েঘরে মা-বাবা ও ভাইবোনের সঙ্গে বসবাস করেন।

দুর্গম পাহাড়ে স্বপ্নার এই করুণ জীবন সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে দেশের একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০ বছর বয়সী স্বপ্না চাকমার জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পা দুটো অচল হওয়ায় চলাফেরা করতে পারে না। মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। পাহাড়ঘেরা দুর্গম এলাকায় ছোট একটি কুঁড়েঘরে মা-বাবা ও ভাইবোনের সঙ্গে থাকে স্বপ্না।

পাহাড়চূড়োর সেই কুঁড়ের ঘরেই সীমাবদ্ধ তার জীবন। সমবয়সীরা যখন খেলাধুলা আর ঘোরাফেরায় মেতে থাকে, তখন শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় দিনের পর দিন ঘরের ভেতরেই থাকতে হয় স্বপ্নাকে। স্বপ্নার পা দুটো অচল হলেও তবে তার হাত দুটো সচল। সে নিজে রান্না করতে পারে, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে নিজের কাজগুলো যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করে। তবু সক্ষমভাবে চলাফেরা করতে না পারার কষ্ট তাকে প্রতিনিয়ত মানসিক যন্ত্রণায় ভোগায়।

চিকিৎসকদের মতে, সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন পেলে স্বপ্না হাঁটাচলা করতে সক্ষম হতে পারে। কিন্তু অতি দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে স্বপ্নার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুমচাষ করে কোনোমতে সংসার চালানো বাবা জলমনি চাকমার পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। স্বপ্নার পরিবার চাচ্ছে কোন সহযোগীতা পেলে স্বপ্নার চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, স্বপ্নার পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। উন্নত চিকিৎসা পেলে সে হাঁটাচলা করতে পারবে– এই আশায় তারা বেঁচে আছে। কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি এগিয়ে এলে পরিবারটির দুঃখ ঘুচতে পারে।’ সমবয়সীদের চাঞ্চল্য দেখলে কষ্ট পায় স্বপ্না। তাদের মতো হাঁটতে, চলতে ও খেলাধুলা করার ইচ্ছে জাগলেও সম্ভব হয়না তার।

বাবা জলমনি চাকমা জানান, তিনি একবার রাঙামাটিতে চিকিৎসক ডা. সুচরিতা দেওয়ানের কাছে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসক আশ্বাস দিয়েছিলেন, চিকিৎসা করালে স্বপ্না হাঁটতে পারবে। তবে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। জুমচাষ করে কোনোভাবে সংসার চালালেও মেয়ের চিকিৎসা করানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। মা-বাবা বিত্তবানদের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চান।

স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মী করুণা বিকাশ চাকমা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্নাকে দেখে আসছি। বয়স ২০ হলেও সে হাঁটতে পারে না। অন্যের সহায়তায় চলতে হয়। চিকিৎসার খরচ বহন করার ক্ষমতা পরিবারটির নেই। আর্থিক সহযোগিতা পেলে চিকিৎসা নিয়ে স্বপ্না তার জীবন কিছুটা হলেও বদলাতে পারবে।’

মৈদং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা বলেন, ‘স্বপ্না চাকমাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।’

উৎস : সমকাল অনলাইন ৫ জানুয়ারি ২০২৬

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চিকিৎসা, প্রতিবন্ধী, রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন