নাইক্ষ্যংছড়ি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিল অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকদের ভুলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র তুলে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানালেও সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রতিকার পাননি। এ অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা, উম্মে হাবিবাহ ও লাউকিয়া তঞ্চঙ্গা জানান, তারা সবাই নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারি কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার ( ২ জুলাই) বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় তারা ৩০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পেয়ে উত্তরপত্রে বৃত্ত ভরাট করেন। প্রশ্নগুলো তাদের কাছে কঠিন মনে হওয়ায় অনেকেই আন্দাজে উত্তর দেন। তাদের ধারণা ছিল, মাত্র ২/৩টি উত্তর সঠিক হয়েছে।
পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে এমসিকিউ প্রশ্নপত্রটি পুনরায় দেখার সময় তারা লক্ষ্য করেন, সেটি ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র। পরে মিলিয়ে দেখে মাত্র ৪/৫টি উত্তর সঠিক হয়েছে, বাকিগুলো ভুল। এতে তারা চরম হতাশ হয়ে পড়েন। তাদের আশঙ্কা, এ কারণে তারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হতে পারেন। তাদের দাবি, এভাবে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, এ ঘটনার দায় কার এবং তাদের ক্ষতির দায় কে নেবে? তারা বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ডিউটি করেছেন, স্বাক্ষরও করেছেন। কিন্তু পরীক্ষার হলে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে সবকিছু খেয়াল করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়সঙ্গত সমাধান, দায়ীদের শাস্তি এবং শিক্ষা উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অপরদিকে, একাধিক অভিভাবক জানান, পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের অবহিত করেছিলেন। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ‘কিছু হবে না’ বলে উড়িয়ে দেন এবং শিক্ষার্থীদের চুপ থাকতে বলেন।
এ বিষয়ে হল পরিদর্শক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, তার কক্ষে আটজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এ সমস্যা দেখা দিলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের ব্যবস্থা করেন।
কলেজের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ কেন্দ্রে মোট ১১টি পরীক্ষার হল রয়েছে। এখানে দুটি কলেজের ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ২১ জন অনুপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান আসনের এমপি প্রতিনিধি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানী বলেন, সরকার যেখানে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে, সেখানে শিক্ষকদের এমন চরম অবহেলায় শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া অমার্জনীয়। তিনি অনতিবিলম্বে সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ মো. ওসমান বলেন, কিছু সমস্যার কথা তিনি জেনেছেন। তবে এত বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে বলে আগে জানতেন না। হল পরিদর্শকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানালে সমাধানের সুযোগ ছিল। যেমনটি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন করেছেন।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, শুক্রবার বিকেলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। অভিযোগ যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

















