পর্যটকদের পদচারণায় সেন্টমার্টিনে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

fec-image

সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত যাপনের সুযোগ মিললেও চলতি মৌসুমে আগের তুলনায় পর্যটক সংখ্যা কিছুটা কম। তবুও দ্বীপের হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। খবর ইত্তেফাকের

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি ১২ বিধিনিষেধ মেনে চলতে হচ্ছে। পর্যটকরা সব বিধিনিষেধ মেনে দুই মাস রাত যাপনের সুযোগ পেয়েছেন। কক্সবাজার নুনিয়া ছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাচ্ছেন। বিগত বছরের চেয়ে এবারের সেন্টমার্টিনে পর্যটক সংখ্যা কম।

জানা গেছে, ১ ডিসেম্বর তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজে ১ হাজার ১৭৪ জন, ২ ডিসেম্বর তিনটি জাহাজে ১ হাজার ১৫০ জন, ৩ ডিসেম্বর চারটি জাহাজে ১ হাজার ৩৬৩ জন, ৪ ডিসেম্বর চারটি জাহাজে ১ হাজার ৩৫৮ জন এবং ৫ ডিসেম্বর পাঁচটি জাহাজে ১ হাজার ৭৪১ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন। সেন্টমার্টিনে অবস্থানরত পর্যটকরা দ্বীপ জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সেখানে প্লাস্টিকের ব্যবহারও কমতে শুরু করেছে।

সেন্টমার্টিনের হোটেল সী-প্রবাল রেস্টুরেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদ জানান, আগের তুলনায় রেস্টুরেন্টে পর্যটকের সংখ্যা কম হলেও এটি সত্ত্বেও ভালো লাগছে। তিনি আরো জানান, যদি পর্যটকরা দুই মাস রাত যাপন করতে না পারত, তবে এমন উপস্থিতি দেখা যেত না। এখন রাতযাপনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তারা আসতে শুরু করেছেন। সরকারি বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও ইউরো বাংলা রেস্টুরেন্টের পরিচালক জিয়াউল হক জানান, দ্বীপে ২ হাজার পর্যটক থাকার অনুমতি থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ পর্যটক আসছেন। তিনি আরো জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় দ্বীপের বাহির থেকে আগত হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের উদ্যোক্তারা বেশি লাভবান হচ্ছেন। কারণ পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব কন্টাক্ট তারা আগেই করে রাখেন, ফলে স্থানীয়রা তেমন সুবিধা করতে পারছেন না।

ভ্যানচালক ইলিয়াস মিয়া জানান, সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা আসায় আমরা খুব আনন্দিত। ভ্যান চালিয়ে এখন কিছুটা উপার্জন করতে পারছি। এই দুই মাসের উপার্জন দিয়ে সংসারের খরচ চালাব।

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে আসা ঢাকার পর্যটক ইমদাদুল হাসান জানিয়েছেন, এটি আমার প্রথম সেন্টমার্টিন ভ্রমণ। এখানে এসে সাগরের সুন্দর ঢেউ, দ্বীপের সীচ বিচ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি আরো জানান, আমার সঙ্গে আসা অন্য সঙ্গীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা গেছে। আরেক জন পর্যটক লিয়াকত আলী জানান, দ্বীপে পর্যটন মৌসুমে তেমন প্লাস্টিক ব্যবহার দেখা যায়নি, যা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের নিরাপত্তা আমরা যথাযথভাবে নজরদারি করছি। পাশাপাশি সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য এক জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন