পার্বত্য চট্টগ্রামের কাঠ ব্যবসার নেপথ্যে কারা?


বহুআগে লিখেছিলাম যত দিন রিজার্ভ ফরেস্ট থাকবে তত দিন পাহাড়ের সংঘাত বন্ধ হবে না। পাহাড়ের গাছ মরু ভূমির তেলের খনি। তেলের কারণে মধ্য প্রাচ্যে অশান্তি। পাহাড়িরা ‘আদিবাসী’ পরিচয় দাবি করে এই কারণে যে প্রায় ২৯ লাখ একর রিজার্ভ ফরেস্ট আছে তা তদের মালিকানাধীন হয়ে যাবে। অথচ রিজার্ভ ফরেস্ট এর মালিক রাষ্ট্র।
সার্কেল চীফদের কোন অধিকার (বনজ সম্পদ আহরণ) ছিল না।১৮৭২ সালের বনভূমি আইন দ্বারা ফরেস্ট পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনী হিলে থাকলে কাঠ আটকায় জব্দ করে তা বাঙালি ব্যবসায়ী এবং পাহাড়ি কাঠ পাচারকারী কারোরই পছন্দ নয়। এইজায়গায় বাঙালি (বিশেষ করে পুরান বাঙালি, চট্টগ্রামের বাসিন্দা) এবং পাহাড়ি সন্ত্রাসী নেতা কর্মী সুবিধাপ্রাপ্ত, প্রশাসন (ফরেস্ট) সবাই একাট্টা।
এখানে সেনাবাহিনী সবার শত্রু। পাহাড় থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প গুটানোর দাবির পিছনে মূল উদ্দেশ্য সেনাবাহিনী যেন কাঠ পাচারের হরমুজ প্রণালিগুলোর নিয়ন্ত্রণ যেন হারায়। শতশত কোটি টিম্বার ডলারের মালিক হবে গুটিকয়েক রাজা।
পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন, চুক্তি বাস্তবায়ন এগুলো হলো সাইনবোর্ড, আড়ালে একচেটিয়া কাঠ বানিজ্য (পেট্রোটিম্বার) মূল কথা। পুরান বাঙালি (চাটগাঁইয়া সওদাগর) চুপাহুয়া শয়তান। বহুক্ষেত্রে এরা জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অর্থদাতা।
পাহাড়ি দলগুলো এদের কখনো ঘাটায় না। কারন হাটহাজারী রাউজান রামগড়, নাজিরহাট ফটিকছড়ি এলাকার বাঙালীদের (চাটঁগাইয়া) কোন ক্ষতি পাহাড়ে হলে পাহাড়িদের হিলে প্রবেশ বের হওয়া ঝুঁকি পূর্ণ হবে। কারণ বাস থেকে নামায় ধান ক্ষেতে নিয়ে যাবে।
রাউজান ফটিকছড়ি হাটহাজারী বেল্টের অপরাধীদের (খুন ডাকাতি গুম অপহরণ) সাথে পাহাড়ের গ্রুপগুলোর এক ধরনের পরস্পর নির্ভর সখ্যতা বহুকাল থেকেই বিদ্যমান।
পাহাড়ের আদিবাঙালিদের (সওদাগর-মাঝি) সাথে পুনর্বাসনে আগত বাঙালি দের সম্পর্কে ফাঁক আছে। সামাজিক মেলামেশায় একটা ‘উঁচু বর্নবাদী ‘ (ঠাকুর বনাম চন্ডাল) ফাঁক আছে। বিয়ে-সাদী হয় না, ঈদের সময় আলাদা জায়গায় জামাত করে, কোরবানি করা গরুর মাংস চাঁন্দের গাড়িতে করে আদিনিবাস রাউজান, গহিরা ফটিকছড়ি হাটহাজারী, কুমিল্লা এসব জায়গায় পাঠায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের কাঠ বাণিজ্যের (রেশন চালের) মূল নিয়ন্ত্রণ এই আদিবাঙালিদের হাতে (জেএসএস র কাছে এই উপাধিটা জনপ্রিয়)। এদের সেনাবাহিনীর সুহৃদ ভাবার কোন কারণ নেই। সেনাবাহিনী কেও এরা তাদের ব্যবসার প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখে।
পুনশ্চঃ এক সময় সরকারি ফরমান অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত কোন সরকারি কর্মকর্তা বদলী হওয়ার প্রাক্কালে ২০০ ফিট (?) কাঠ আসবাবপত্র বানানোসহ গৃহনির্মাণের জন্য অনুমতি সাপেক্ষ নিতে পারতেন।
সেনাবাহিনীতে এই অনুমতিকে ঢালাও ভাবে নেওয়ার সুযোগ আভ্যন্তরীন নীতিমালা আরোপ করে কঠোর করা হয়। আমার জানামতে কাউকে এই সুযোগ নিতে দেখিনি। তাই সেনা বাহিনী নির্মোহভাবে সন্ত্রাসীদের এই পেট্রোটিম্বার বানিজ্যের মূলে আঘাত করলে সন্ত্রাসের সূচিকাগার নষ্ট হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জটিল এবং কষ্টসাধ্য সেই তুলনায় অবৈধ আয়ের উৎস সুনির্দিষ্ট এবং স্হায়ী। মাদক এবং কাঠ পাচারকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেই অস্ত্রের কদর কমে যাবে। কাঠ প্রাচারের হরমুজ প্রণালির গলায় চিপা দেই, মুখ দিয়ে একে-৪৭ বের হবে।
১ এপ্রিল ২০২৬
















