পিসিআর ল্যাব স্থাপিত হবে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে

fec-image

দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরার পিসিআর ল্যাব স্থাপিত হতে যাচ্ছে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে। আর ল্যাবটি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপন করতে অনুমোদন চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২ ৭জুন) রাতে রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি কিনে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে।

দেশের সবচেয়ে বড় জেলা হচ্ছে রাঙামাটি। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুসারে রাঙামাটির জনসংখ্যা ৬ লক্ষ ২০ হাজার ২১৪ জন। এখানে মেডিকেল কলেজ থাকলেও মহামারী করোনাকালীন সংকটে এতদিন পিসিআর ল্যাব এবং সদর হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় এখানকার জনগণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) পাঠানো হলে ৫ থেকে ৭দিন পর রিপোর্ট আসে।

এরমধ্যে জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৭টির যোগাযোগ ব্যবস্থা কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে। হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাঠাতে সময় লেগে যায় দু’দিন। তাই সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে রাঙামাটিবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব ও হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

করোনা মোকাবিলায় স্থানীয়দের দাবি মিটিয়ে দিয়েছেন, দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে দিচ্ছে।

২৬ জুন সকালে জেলা প্রশাসনের সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনা ভাইরাস স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ সংক্রান্ত সমন্বয় সভার শুরুতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সচিব পবন চৌধুরীর উপস্থিতিতে ৬৯ লাখ টাকার চেক রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

এদিকে পিসিআর ল্যাব পেয়ে এখন স্বস্তীর নি:শ্বাস ফেলছে রাঙামাটিবাসী। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ জেলাবাসীর দাবি পূরণ হওয়ায় এর চেয়ে খুশি কি আর থাকতে পারে। এ জন্য দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি। এখন আমাদের পরবর্তী দাবি আইসিইউ স্থাপন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, রাঙামাটি একটি দূর্গম জেলা। এখানে পিসিআর ল্যাব না থাকায় করোনা মোকবিলা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। আমাদের কঠিন পথকে যারা সহজ করে দিয়েছেন সেই বসুন্ধরা গ্রপের প্রতি এবং সচিব প্রবণ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, পিছিয়ে পড়া অঞ্চল রাঙামাটিবাসীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের মানবিক দাবি মিটানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক মঙ্গল ও সফলতা কামনা করছি।

রাঙামাটির স্বেছাসেবী সংগঠন “স্বপ্নবুনন” এর প্রতিষ্ঠাতা নুর তালুকদার মুন্না বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে হাতে এসে ধরা দিয়েছে। এইজন্য বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ।

জেলার স্বেছাসেবী সামাজিক সংগঠন “জীবন” এর সাধারণ সম্পাদক সাজিদ বিন জাহিদ জানান, পিসিআর ল্যাবের সংবাদ শুনে আমি হতবাক যে আমাদের দাবি পূরন হয়েছে। এ জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে আজীবন মনে রাখবে পাহাড়বাসী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 15 =

আরও পড়ুন