পেকুয়ায় পাষণ্ড ছেলের দায়ের কুপে পিতার মৃত্যু

fec-image

পারিবারিক কলহের জের ধরে পাষণ্ড ছেলের দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত পিতা মোহাম্মদ ইব্রাহীম (৫০) নিহত হয়েছে।

সোমবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের ইব্রাহীম হার্ডওয়ারের স্বত্তাধিকারী ও মগনামা ইউনিয়নের দরদরিঘোনার জানে আলমের ছেলে।

উল্লখ্য যে, ঘটনার ৩ দিন আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্যাঘোনা এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী বেলুয়ারা বেগমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল পিতাকে এর আগে মায়ের সাথে ঝগড়া না করতে সতর্কও করে। ছেলের উত্তেজিত ভাব বুঝতে পেরে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ভয়ে ৩ রাত বাড়িতে ঘুমাননি। চাচার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন ৩দিন। ঘটনার দিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ইব্রাহীম চাচা আবু ছৈয়দের বাড়ি থেকে রাত্রিযাপন শেষে নিজ বাড়িতে আসেন। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা তার ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র মো. ইসমাইল ধারালো দা নিয়ে ইব্রাহীমকে মাথায় কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালের আইসিওতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ইব্রাহীমের ভাই আজমগীর জানান, আমার ভাইকে মাথায় কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। চমেক হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ আইসিওতে রাখা হয়েছিল। ঘটনার ১২ দিন পর আমার ভাই মারা গেল। ইসমাইলকে দা এনে দিয়েছে আমার বড় ভাইয়ের শ্যালিকা সাদিয়া। আর বড় ভাইয়ের স্ত্রী ছেলেকে সহযোগিতা করেছে। মা ও ছেলে মিলে কি নিষ্ঠুর হয়েছে আপনারা দেখলে অবাক হবেন। আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে নিহত করেছে আমি এদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি ফরহাদ আলী জানান, এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় মামলা করা হয়েছিল। নিহতের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন