ফলজ ও বনজ নার্সারি করে এখন স্বাবলম্বী বাইশারীর নুরুল আলম

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড পুর্ব বাইশারী তুফান আলী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আলম ফলজ ও বনজ নার্সারি করে এখন স্বাবলম্বী।

১ একর ২০ শতক জমি বন্দক নিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর আগে থেকে ক্ষুদ্র পরিসরে নার্সারি করা শুরু করে নুরুল আলম। এখন তার নার্সারিতে লাখের উপরে রয়েছে বিভিন্ন জাতের চারা।

শুক্রবার (২৬ জুন) সরজমিনে নার্সারিতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে রয়েছে বিভিন্ন রকম ফলজ, বনজ জাতের চারা।

নুরুল আলম বলেন, এই বৃক্ষই আমার জীবন। আমার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এই চারা। বৃক্ষ প্রেমী নুরুল আলম চারাগুলোকে নিজ সন্তানের মত যত্ন করেন।

তার নার্সারিতে ফলজ চারার মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঠাল, জাম্বুরা, লেবু, মালটা এবং বনজের মধ্যে রয়েছে আকাশ মনি, ছোট, বড়, মাঝারি‘সহ তিন প্রকার জাতের। আরো রয়েছে গর্জন, কড়ই, মেহগনি অর্জন‘সহ নানা জাতের চারা।

ছোটবেলা থেকে নার্সারী করার অভিজ্ঞতা থেকে সব কিছু নিজের বিবেক বুদ্বি খাটিয়ে এই বিশাল নার্সারি করেছেন তিনি। এতে তিনি এখন সফলতার মুখ দেখেছেন। সংসারে তার এখন আর অভাব অনটন নাই । দশ জনের মত তিনি ও ভাল চলছেন।

সংসার এ ছেলে মেয়ে স্ত্রী নিয়ে ৫ জনের ছোট সংসার । নিজে লেখা পড়া অল্প করেছে । তবে ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ফলজ, বনজ মিলে লক্ষাধিক চারার নার্সারি করেছে। সর্বমোট মজুরী‘সহ খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকার মতন।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর চারা বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘ আঠারো বছর নার্সারি করে আসছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা তিনি পাননি।
সব কিছু স্থানীয় বাজার থেকে সার, কিটনাশক ক্রয় করে আমি নিজেই প্রয়োগ করি।

তবে এ বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষি অফিসারগণ তার নার্সারি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান।

নুরুল আলমের নার্সারির পাশাপাশি রয়েছে পানের বরজ, কলা বাগান। সব কিছু মিলিয়ে তিনি আসলে কর্মঠ একজন মানুষ ও সফল নার্সারি ম্যান।

তিনি তার নার্সারি হতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের চারা প্রতি বছর ফ্রি অনুদানও দিয়ে থাকেন বলে জানান।

তাছাড়া নুরুল আলম বর্তমানে তুফান আলী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য । বিগত নির্বাচনে সে বিপুল ভোটে ১ নং অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান নুরুল আলমের নার্সারি থেকে ভাল জাতের চারা ক্রয় করে সফল হয়েছি। ৩ বছরেই ফলন ধরা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে বাইশারীর দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. রফিকুল আলম বলেন, তার নার্সারি পরিদর্শন করা হয়েছে। আগামীতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা‘সহ সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা হবে ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউপি সদস্য, কৃষি অফিস, নার্সারি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =

আরও পড়ুন