বান্দরবানে জাগো পার্বত্যবাসীর হরতাল প্রত্যাহার
বান্দরবানে টানটান উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ৭২ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চে বিক্ষোভ সমাবেশে এ ঘোষনা দেয় হয়।
শহরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যদের টহল অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্ত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
জাগো পার্বত্যবাসীর নেতা আব্দুল জলিল জানান, শুক্রবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা থাকায় ৭২ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পাহাড়ে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধে সরকারসহ নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে।
তবে সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বুধবার জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার গাড়ি বহরে হামলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পাহাড়ি ও বাঙালীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের লোকজন জাগো পার্বত্যবাসীর নেতাদের হরতাল প্রত্যাহার করতে চাপ দেয়। এছাড়া ৭২ ঘণ্টা হরতালের মধ্য ৩৬ ঘণ্টা পালনে আমরা সফল হয়েছি।
এদিকে সকালে সেনাবাহিনী, বিজিবি-পুলিশের প্রহরায় জনসংহতি সমিতির সভাপতি (জেএসএস) জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে (সন্তু লারমা) বোমাং রাজা প্রকৌশলী উ চ প্রু’র সাথে জাদীপাড়া বাসভবনে এক সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন। পরে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উচহ্লা ভান্তের সঙ্গে দেখা করতে যান। দুুপুরের পর পাহাড়ী-বাঙালী সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের দেখতে সন্তু লারমা সদর হাসপাতালে যান। এছাড়াও পুরাতন রাজবাড়িতে রাজপুত্র চহ্লা প্রু জিমি এবং সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে স্বাক্ষাত করেন। বিষয়টি জেএসএস নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সকাল থেকেই জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ট্রাফিকমোড়’সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে সন্তু লারমার চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এসময় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে জেলা শহরের বালাঘাটায় জেএসএস-জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।


















