ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তার অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হুমকি

fec-image

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবেদককে হুমকি দিয়েছে উক্ত অসাধু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সোমবার ( ১ জুন) বিকাল ৩ টা ১১ মিনিটের দিকে ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান নিজ মোবাইল ফোন (০১৮৯০১০০১৭৫) থেকে প্রতিবেদককে নানাভাবে হুমকি দিয়ে নিজেকে সাধু সাজানোর চেষ্টা করেন।

এমনকি বিগত ৩/৪ মাস পূর্বে তার বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা হলেও তার কিছু হবেনা বলে আস্ফালন দেখানোর চেষ্টা করেন।

এসময় প্রতিবেদকও পাল্টা বনভূমি নিয়ে তার বিভিন্ন অনিয়ম ও নানা নারী কেলেংকারীর ঘটনা ছবি ও ভিডিও প্রতিবেদকের সংরক্ষণে আছে বললে এক পর্যায়ে মোবাইল কেটে দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অভিযোগ উঠে, ভেমরিয়াঘোনা রেঞ্জের অধীন ঈদগাঁও -ঈদগড় সড়ক সংলগ্ন হাজির বাগান নামক বন বিভাগের কয়েক একর কোটি টাকার মূল্যমানের জায়গার গাছ পালা রাতারাতি উজাড় করে তাতে মোটা অংকের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে কতিপয় বনদস্যুদের নিজ মালিকানাধীন কুল বাগান করার জন্য অবৈধ দখলের সুযোগ করে দেয় রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন।

এ সংবাদে প্রতিবেদকসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীদের একটি দল সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে ঘটনার সত্যতা মিলে এবং ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা ছবি, ভিডিও এবং সচিত্র সংবাদ প্রিন্ট, অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এতে টনক নড়ে উর্ধতন বন কর্মকর্তাদের। পরে বিগত ১৭ মে সদর এসিএফ সোহেল রানার নেতৃত্বে শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা এমদাদুল হকের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে উক্ত অবৈধ কূল বাগান উচ্ছেদ করে উদ্ধারকৃত বনভূমিতে দ্রুত বনজ বাগান রোপন ও জড়িত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলার নির্দেশ দেয়া হয় স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তাকে।

কিন্তু স্থানীয় হেডম্যান ইদ্রিসের মাধ্যমে ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে ইতিপূর্বে হাতিয়ে নেয়া অবৈধ অর্থ বৈধ করতে মামলা নিয়ে নানা গড়িমসি করতে থাকে রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। এতেও ঘটনার শেষ নয় উর্ধতন কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিতে উদ্ধার করা জায়গায় একই বনদস্যুদের মাধ্যমে চারা রোপন করে কয়েক একরের এ বনভূমিটি ফের বনদস্যুদের হাতে তুলে দেয়।

এমনকি জায়গাটি কথিত বাগান মালিকদের সামাজিক নবায়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও প্রচার করে বিভিন্ন মাধ্যমে এ দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা।

প্রশ্ন হল একজনকে সামাজিক নবায়নের জন্য কত একর বনভূমি বরাদ্দ দেয়া যায়। আর বরাদ্দ দিলে ঐ বিশালাকার বনভূমিতে রোপিত কূল বাগান কেন উচ্ছেদ করা হল?

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, উদ্ধারকৃত বনভূমির সড়ক সংলগ্ন স্থানে পুনরায় লোক দেখানো কিছু আকাশ মনি গাছ চারা রোপন করলেও ভেতরের পুরো জায়গা জুড়ে পূর্বের মত কূল চারা রোপন করে চলছে অদ্যবধি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় প্রকাশিত হতে থাকলে প্রতিবেদককে বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েক দফা বশে আনার চেষ্টা করে। এতেও কাজ না হওয়ায় বিকারগ্রস্ত হয়ে হুমকির পথে বেছে নেয় এ অসাধু রেঞ্জ কর্মকর্তা।

এদিকে এ ঘৃণ্য হুমকির সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক, সচেতন মহল, উক্ত দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ লোকজন এবং বনজ সম্পদ সচেতন লোকজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে উক্ত বনভূমি পুনরুদ্ধার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, বন বিভাগ, ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 7 =

আরও পড়ুন