মানিকছড়ির প্রান্তিক কৃষকের ভাগ্যে পরিবর্তন এনে দিয়েছে কৃষক মাঠ স্কুল

fec-image

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কৃষিনির্ভর জনপদ মানিকছড়ি উপজেলার কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিতকরণে ইউএনডিপির অর্থায়ন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ এর সহযোগিতায় কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডানিডা।

গড়ে ২৫-৩০ জন কৃষক নিয়ে তৃণমূলে গঠন করা হয়েছে একেকটি কৃষক মাঠ স্কুল। মানিকছড়ি উপজেলায় ৩৯টি কৃষক মাঠ স্কুলে প্রতিনিয়ত পাহাড়ের পতিত জমিতে কম খরচে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, জৈব সার নির্ভর পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল-ফলাদি উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এ অঞ্চলে অনাবাদি ও পতিত জায়গা-জমিতে পরিকল্পিত চাষাবাদে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে নেয়া এ উদ্যোগে বেশ সফলতা পরিলক্ষিত হচ্ছেে। কৃষকরা এখন কৃষিক্ষেত্রে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানিকছড়ির প্রত্যান্ত জনপদে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করে বেশ লাভবানসহ পুরো পরিবারে আশার আলো দেখছে।

উপজেলার ৩৯টি কৃষক মাঠ স্কুলের প্রায় সহস্রাধিক কৃষক পরিবার এখন বাড়ির আঙ্গিনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জৈব সার তৈরি, বেড পদ্ধতিতে সবজি চাষ, পেঁপে চাষ এবং পাহাড়ের রসালো আনারস (দেশি ও কেলেন্ডার) চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার উপজেলার গবামারা, জামতলী ও গচ্ছাবিল এলাকার একাধিক কৃষক মাঠ স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার সাধারণ কৃষকরা আগে গ্রামের প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লোকসান গুনতে হতো। বছরের পর বছর লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এক সময় কৃষি পেশাও ছেড়ে দিত। কিন্তু এখন কৃষক মাঠ স্কুলে প্রশিক্ষণ ও ডানিডার সয়াহতা পেয়ে চাষাবাদে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়ে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে পারছে।

সাধারণত. ৪০ শতক টিলায় আনারস চাষে ৭৫-৮০ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আয় করতে এখন আর বেগ পেতে হয় না। পাহাড়ের উঁচু- নিচু ভূমি ও জমির মধ্যেও মিশ্র ফসল চাষাবাদ করে সকলেই সফলতা পাচ্ছে।

কৃষক মো. নজরুল ইসলাম ও মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা আগে কখনও এভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চাষাবাদ করতে জানতাম না। ফলে বাড়ির আশে- পাশের অনাবাদি ও পতিত জমিগুলো খালি পড়ে থাকত। এখন কৃষক মাঠ স্কুলের সদস্য হতে পেরে, সেখানে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনে সহযোগিতা পেয়েছি। শুধু সবজি কিংবা ফল-ফলাদির চাষ নয়, হাঁস- মুরগী, গরু-ছাগল লালন-পালনেও কৃষক মাঠ স্কুলের প্রশিক্ষণে কৃষকরা ভাগ্য পরিবর্তনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

গবামারা এলাকার উদীয়মান যুবক ও কৃষক মাঠ স্কুলের কৃষক সহায়ক মো. জুলাফিকার আলী ভুট্টো জানান, মান্ধাতামলের কৃষি পদ্ধতি থেকে কৃষকদেরকে আধুনিক / বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়াসহ কৃষিক্ষেত্রের আমল পরিবর্তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপির অর্থায়নে জেলা পরিষদের সহযোগিতায় মানিকছড়িতে কৃষক মাঠ স্কুলে নিয়মিত সকল চাষাবাদে কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, জৈব সার তৈরি, উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান, ইউনিয়ন ভিত্তিক কালেক্শন সেন্টার থেকে মালামাল বাজারজাতকরণে সহায়তায় আমরা কৃষকদেরকে সহায়তা দিয়ে থাকি। এতে উপজেলার সহস্রাধিক কৃষি পরিবারের ভাগ্য পাল্টে গেছে। কৃষক মাঠ স্কুলের প্রশিক্ষিত কৃষকরা যে সমস্ত ফল-ফলাদি উৎপাদন করেন, সেসব ফল-ফলাদি বিষমুক্ত। ফলে বাজারে এসব পণ্যের চাহিদাও বেশি। আমরা এখানকার কৃষকের জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিতে ইতোমধ্যে সক্ষম হয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × five =

আরও পড়ুন