বান্দরবানে ম্রো সম্প্রদায়ের জুম উৎসবের উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার
জুম উৎসবে মেতেছেন ম্রো সম্প্রদায়। ম্রো সম্প্রদায় নবান্ন উৎসবকে বলে (চামুংপক), মার্মারা বলে ককসই পোয়ে আর বমরা বলেন ত্লই থারন।
শনিবার বান্দরবান জেলা সদরের সুয়ালক ইউনিয়নের ম্রোলংপাড়ায় ম্রো সম্প্রদায়ের নবান্ন উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি।
জুমচাষী মেনুলু ম্রোর জুম পাহাড়ে নবান্ন উৎসবে জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত পার্বত্য জেলা জেলা পরিষদের সদস্য সিইয়ং ম্রো, ম্রাচা খেয়াং, থোয়াইহ্লা অং, পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যউচিং চাক, ক্ষুদ্র নৃ-গাষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মংনুচিং, রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি একেএম জাহাঙ্গীর, সুয়ালক ইউপি চেয়ারম্যান রাংলাই ম্রোসহ পাহাড়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐহিত্য আর সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে প্রতি বছর পাহাড়ে জুম উৎসব পালন করে আসছে জুমিয়ারা পরিবার গুলো। এসময় ম্রো তরুণ- তরুণী ও নারী-পুরুষরা নাচে-গানে আর ঐতিহ্যবাহী ম্রো বাঁশির সুরে নবান্ন উৎসব মাতিয়ে তোলেন। জুম চাষের মাধ্যমে জুমিয়া পরিবারগুলো সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে এ বছর জেলায় প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ হেক্টর পাহাড়ী জমিতে জুম চাষ করা হয়েছে। এক পাহাড়ে প্রতি বছর জুম চাষ করা যায় না বলে পাহাড়িরা ভিন্ন ভিন্ন পাহাড়ে জুম চাষ করে। জুমে ধান, ভুট্টা, মারফা, মরিচ, যব-সরিষা, মিষ্টি কুমরা, টকপাতাসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ করেন পাহাড়ীরা। এখানে বসবাসরত মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমী, লুসাই, পাংখো, বম, চাকসহ ১১টি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর জুম চাষ অনেক কমে গেছে। পাহাড়ীরা জুম চাষের পরিবর্তে আস্তে আস্তে মিশ্র ফল চাষের দিকে ঝুকছে।
জানাগেছে, বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে জুম চাষের জন্য পাহাড়ে আগুন দেওয়া হয়। এরই মধ্য পরিস্কার করে মে-জুন মাসের দিকে আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করে জুমিয়ারা। প্রায় চার মাস পরিচর্যার পর বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের দিকে পাহাড়ে জুমের ধান কাটা শরু হয়। ধান কাটা মৌসুমে পাহাড়ী পল্লীগুলোতে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠে পাহাড়ী সম্প্রদায়গুলো।

















